পেঁয়াজের দাম নিয়ে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ

পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। 

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেঁয়াজের দাম নিয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল কি না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে কেবিনেটে না, আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন মাঠপর্যায়ে এখন ক্লোজ মনিটরিং হচ্ছে, আজকে তার কিছুটা ইম্প্যাক্টও পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির যে প্রবণতা ছিল, আজ সেই প্রবণতা নেই।’

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা হচ্ছে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো। যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত এবং যারা অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়ার চেষ্টা করছে তাদের আইনের আওতায় আনা। নির্দেশনা পাওয়ার পরে মাঠপর্যায়ে টিম কাজ করছে।

শুক্রবার হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারত। এই খবরে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়তে থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম। ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পাইকারিতেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় কেজিতে ১৪০ টাকার বেশি।

খুচরায় রোববার বেশিরভাগ দোকানে আড়াইশ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় পেঁয়াজ। কোথাও কোথাও ২৮০ টাকায় উঠে যায়।

আর এই দাম ধরতে আগাম মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে তোলার ধুম পড়েছে। পোক্ত না হলেও অনেক কৃষক হালি পেঁয়াজও বাজারে তুলেছেন। দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা রাজবাড়ীর বিভিন্ন বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর এ কারণেই দামও কমে এসেছে।

রাজবাড়ীর বড় বাজারে সোমবার সকাল থেকে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ টাকা। আর পুরানো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজিতে।

মানিকগঞ্জে প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০টাকায়। আর দেশীয় পুরানো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।

আর কয়েকদিনের মধ্যেই মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভরা মৌসুম শুরু হলে বাজারে দাম আরো কিছুটা কমে আসবে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

এদিকে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের রাজবাড়ীর সহকারী পরিচালক কাজী রাকিবুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজ বিক্রেতা ও মজুদকারীরা উদ্দেশ্যমূলক ভাবে দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এরই মধ্যে রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর দায়ে বেশ কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানান ভোক্তার ওই কর্মকর্তা।