ট্যানারি সরানোর পরেও বাড়েনি রপ্তানি

হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভার আধুনিক চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তরের সাত বছরে রপ্তানি তেমন একটা বাড়েনি। ২০১৭ থেকে ২০২৩ প্রতি বছরেই রপ্তানি ঘুরপাক খেয়েছে ১ থেকে সোয়া ১ বিলিয়ন ডলারের ঘরেই। উল্টো স্থানান্তর প্রক্রিয়াতেই বন্ধ হয়েছে ৬৫টি ট্যানারি।

২০১৭ সাল পর্যন্ত হাজারীবাগে চালু ট্যানারি ছিলো ২শ’ ২০টি। তবে বুড়িগঙ্গা দূষণের দায়ে এবং আদালতের রায়ে ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল ট্যানারিগুলো বন্ধ করে দেয় সরকার।

এরপরই ট্যানারিগুলো স্থানান্তর করা হয় সাভার আধুনিক চামড়া শিল্প নগরীতে। তবে সেখানে যেতে পারেনি সবগুলো প্রতিষ্ঠান।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, সেই সময় প্লট বরাদ্দে নানা জটিলতা এবং অনিয়ম তৈরি করে চামড়া শিল্প নগরী বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিসিক, আর এই অনিয়মের ‘বলির পাঠা’ হয়ে প্লট পায়নি অনেকে।

tanari

সাভার ট্যানারিতে প্লট বঞ্চিতদের একজন মো. আবুল নাসের। তিনি বলেন, আমার বাবা অনেকবার যোগাযোগ করেও কাজ হয়নি।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে হাজারীবাগে চালু ২২০টি ট্যানারির বিপরীতে সাভারে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার স্কয়ার ফিটের ২০৫টি প্লট তৈরি করে বিসিক। পরবর্তীতে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে প্লটের আকার পরিবর্তন করে বরাদ্দ দেয়া হয় ১শ’ ৫৫ ট্যানারিকে। এর মাঝে কোনো রকমে উৎপাদনে টিকে আছে ১শ’ ৩০ ট্যানারি। এবং রপ্তানি বৃদ্ধির যে স্বপ্ন তখন ট্যানারি স্থানান্তরিত করা হয় সেটাও সফল হয়নি।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. শাহীন আহমেদ বলেন, আমাদের যেসব ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা- আদৌ সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।

অথচ হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের সময় জোরগলায় বলা হয়েছিলো কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ সাভার আধুনিক চামড়া শিল্প নগরী পুরোপুরি প্রস্তুত। কিন্তু বাস্তবে শিল্প নগরীটি কম্প্লায়েন্স হতে না পারা এবং পাশের ধলেশ্বরী দূষণের দায়ে বাংলাদেশের চামড়া রপ্তানি বাড়েনি, একই সাথে কিছু ট্যানারি বন্ধ হয়েছে।

tanari2

এই পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন কর্মীরা বলছেন, রপ্তানি না বাড়া এবং ট্যানারি বন্ধের দায় শিল্প মালিক এবং বিসিক অদক্ষতা উভয়েরই।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজোয়ানা হাসান বলেন, বিসিক ক্ষুদ্র শিল্প নিয়ে কাজ করে। বিসিক কেনো ট্যানারি শিল্পের নিয়ে দায়িত্ব নিতে গেলো?

শিল্প নগরীটির বেহাল দশার জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবও দায়ী, তবে এখনো চামড়া শিল্প নগরীটিকে আধুনিক ও পুরোপুরি কার্যকর করার সুযোগ আছে বলে মনে করেন এই পরিবেশ কর্মী।