যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল নয় পোশাক শিল্প: নানক

যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল হয়ে পড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমলেও, শুধু ওই বাজারের ওপরই দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য নির্ভরশীল হয় বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

সোমবার তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর নব নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

নানক বলেন, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। আর এর প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। তবে তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাই কেউ বাংলাদেশের ওপর চোখ রাঙালেই হবে না।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যাগুলো চিহ্নিত হয়েছে। কাজেই, যত দ্রুত সম্ভব এগুলোর সমাধান করতে হবে।

পোশাকখাতকে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্র হিসেবেই নয়, সমাজ পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো ও কাস্টমস নিয়ে বড় অভিযোগ রয়েছে। এ সমস্যা বড় সমস্যা। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রুশ ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বাজারে রপ্তানি কমেছে। তবে, তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল নয়।

বৈঠকে বিজিএমইএ- এর নতুন সভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন তৈরি পোশাকখাতের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি এনবিআর ও কাস্টমসের বিরুদ্ধে নানা হয়রানির অভিযোগ করেন।

কচি বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ ও তেলের দাম বাড়ার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কারণে গার্মেন্টসগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে।

তবে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। বলেন, পোশাক খাতকে এগিয়ে নিতে তার মন্ত্রণালয় বিজিএমইকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

বিজিএমইএর সভাপতি এসএম মান্নান কচি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি করে ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য । সবচেয়ে বেশি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে বাংলাদেশে, ২১৫ টি।

করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে তৈরি পোশাকখাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খাতে ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত। তবে যুদ্ধ ও তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাত।