একাধিক গাড়ি থাকলে দিতে হবে সারচার্জ

কোনো ব্যক্তির নামে একাধিক গাড়ি বা মোটরগাড়ি থাকলে অতিরিক্ত পরিবেশ সারচার্জ দিতে হবে। গাড়ির নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নকালে এই চার্জ নেয়া হবে। ইঞ্জিনের ক্ষমতাভেদে এই সম্পদকরের পরিমাণ প্রস্তাব করা হয়েছে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় এ প্রস্তাব করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির নামে একাধিক মোটরগাড়ি থাকলে প্রত্যেকটি গাড়ির জন্য সারচার্জ দিতে হবে।

তিনি জানান, ১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য পরিবেশ সারচার্জের হার ২৫ হাজার টাকা; ১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ২০০০ সিসি বা ১০০ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য ৫০ হাজার টাকা; ২০০০ সিসি বা ১০০ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ২৫০০ সিসি বা ১২৫ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য ৭৫ হাজার টাকা; ২৫০০ সিসি বা ১২৫ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ৩০০০ সিসি বা ১৫০ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য দেড় লাখ টাকা; ৩০০০ সিসি বা ১৫০ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ৩৫০০ সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য দুই লাখ টাকা এবং এর চেয়েও বেশি সিসি বা কিলোওয়াট হলে অর্থাৎ সাড়ে তিন হাজার সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের অধিক প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা সারচার্জ দিতে হবে।

তবে শর্ত থাকে যে, একাধিক গাড়ির ক্ষেত্রে যে গাড়ির ওপর সর্বনিম্ন হারে পরিবেশ সারচার্জ আরোপিত হবে ওই গাড়ি ব্যতীত অন্যান্য গাড়ির বিপরীতে পরিবেশ সারচার্জ পরিশোধ করতে হবে। পরিবেশ সারচার্জ গাড়ির নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নকালে নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উৎসে সংগৃহীত হবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। বিশাল অঙ্কের এ বাজেটের ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৩তম বাজেট এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা চতুর্থ মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর প্রথম বাজেট। আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস হওয়ার কথা রয়েছে।