গোলা ভরা ধান-চাল, বাজারে অশনি সংকেত

ফসল উৎপাদন সন্তোষজনক, সরকারের গুদামে পযার্প্ত মজুদ, বাজারেও কমতি নেই, সেই সঙ্গে কমানো হয়েছে আমদানিতে শুল্ক, তারপরও খুচরাতে সহনীয় পর্যায়ে আসেনি চালের দাম।  

পাইকাররা বলছেন, গেল দুই দিনে উঠতি ধানের বাজার এখন পড়তির দিকে। তবে, তার সঙ্গে সমন্বয় করে দাম না কমিয়ে সব ধরনের চালের দাম এক টাকা কমানো হয়েছে।

যদিও সোমবার আগের দামেই চাল বিক্রি করতে দেখা গেলো বিক্রেতাদের। তারা জানালেন, আমদানি করা চাল বাজারে এলে, এই দাম আরো কমে আসবে। 

আর, খাদ্যমন্ত্রী বলছেন, চাল মজুদ করে কেউ যাতে দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য বেসরকারিভাবেও চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।  

চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর ঘোষণায়, দাম কমবে এমন আশায় বাজারে আসেন রাজধানীর মগবাজার এলাকার এক ক্রেতা। 

বাজারে গিয়ে তিনি দেখেন দাম তো কমেইনি, উল্টো এক মাসের তুলনায় বস্তা প্রতি তিনশ’ টাকা বেশি দাম আঠাশ চালের।  

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা- এফএও বলছে, বাংলাদেশে চাল উৎপাদন এখন ইতিহাসের সবোর্চ্চ, যা ছাড়িয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টনেরও বেশি। 

আরও পড়ুন: চুক্তি সই: দেশেই উৎপাদিত হবে করোনার টিকা

সরকারের গুদামে খাদ্য মজুদও সন্তোষজনক, যা এখন ধান-চাল মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ টন। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারিভাবে চাল আমদানি হয়েছে গেল দেড় বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন। 

পাইকার থেকে খুচরা, বেশিরভাগ বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত চালের মজুদ এরপরও আবার চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর ঘোষণা এলেও তার প্রতিফলন নেই বাজারে। 

আবার ধানের দামও ১৪শ’ থেকে ১৩শ’ ২০ টাকায় নেমে এলেও, মিলাররা এখনো চড়া দামেই ছাড়ছেন চাল। 

আর এতেই পাইকারী থেকে খুচরা সবখানে বেড়েছে চালের বাজার। মোটা থেকে চিকন প্রায় সব ধরনের চাল কেজিতে ৪৬ টাকার ওপরে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। 

চালের এই বাড়তি বাজারের পেছনে অবশ্যই উৎপাদনে ঘাটতি নয় বরং সিন্ডিকেটকে দুষলেন খাদ্যমন্ত্রী। বলছেন, এই খেলা বন্ধে এখন বেসরকারিভাবেও চাল আমদানি হচ্ছে।  

এদিকে, রাজধানীর পাইকারী বাজারে এরই মধ্যে সোমবার, এক টাকা করে কেজিতে কমেছে মোটা বিশেষত আঠাশ ও মিনিটেক চালের দাম। যদিও তার প্রভাব নেই খুচরা বাজারে।


একাত্তর/আরএইচ