একীভূত পাঁচ ব্যাংকের লেনদেন শুরু, টাকা পাচ্ছেন আমানতকারীরা

দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকটে ভোগা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এ আজ থেকে স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ‘রেগুলেশন স্কিম’ অনুযায়ী, সাধারণ আমানতকারীরা এখন থেকে তাদের জমানো টাকা উত্তোলন করতে পারছেন, যা গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা ও সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। আমানত বিমার আওতায় যে কোনো সাধারণ গ্রাহক তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারছেন।

যাদের চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাবে ২ লাখ টাকার বেশি জমা আছে, তারা পরবর্তী প্রতি তিন মাস অন্তর ১ লাখ টাকা করে মোট ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। তবে ক্যান্সার আক্রান্ত ও কিডনি ডায়ালিসিস রোগীদের ক্ষেত্রে টাকার অংকের এই সীমাবদ্ধতা বা শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আমানতকারীরা টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তবে প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। ৭ লাখ টাকার বেশি আমানত ৫ বছর মেয়াদি বিনিয়োগে রূপান্তরিত হবে, যেখানে ব্যাংক রেটের চেয়ে ১ শতাংশ কম (৩ শতাংশ) মুনাফা দেওয়া হবে।

ব্যক্তিগত বড় আমানতকারীরা ২ বছর পর তাদের সব টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। আর, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং বিদেশি দূতাবাসগুলোর ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক লেনদেনের সুবিধা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক- এই পাঁচটি ব্যাংক দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণের কারণে তীব্র সংকটে পড়েছিল। আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জমানো টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ সকাল থেকেই গ্রাহকরা টাকা জমা দেওয়া এবং উত্তোলনের সুবিধা পাচ্ছেন। মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে (৩ মাস, ৬ মাস বা ১ বছর) নির্দিষ্ট কয়েকবার স্বয়ংক্রিয় নবায়নের পর গ্রাহকরা সম্পূর্ণ টাকা তুলে নিতে পারবেন।