দেশে বিদ্যুতের প্রায় ১০ শতাংশের জোগান আসে ভারতের গোড্ডায় নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে। চুক্তি পর্যালোচনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি বলছে, বছরে আদানিকে বাড়তি দেওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বিদ্যুৎ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরে চুক্তি পর্যালোচনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি।
বিদ্যুৎ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, বিশেষ বিধানে চুক্তিগুলো জাতীয় স্বার্থের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে গোষ্ঠী স্বার্থকে। বিশেষ আইনের অপব্যবহার, যোগসাজশ, দুর্নীতি, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের ফলে পিডিবি এখন দেউলিয়ার পথে।
আদানির চুক্তি বাতিল হবে কি-না, কিংবা সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে মামলা হবে কি-না, তার ভার অন্তর্বর্তী সরকার নয়, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের দিকেই ঠেলে দেয় পর্যালোচনা কমিটি।
কমিটির প্রধান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। মামলার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু বর্তমান সরকারের সময় কম, আমরা চাইবো পরবর্তী সরকারও যেন এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়।
বিলম্ব করলে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিটি।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অন্য উৎস থেকে কেনা বিদ্যুতের তুলনায় আদানির বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৪-৫ সেন্ট বেশি দেওয়া হচ্ছে।
চুক্তি পর্যালোচনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে আদানির বিবৃতি
জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনের পর আদানি পাওয়ার এক বিবৃতিতে জানায়, পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বিষয়ে আমাদের সঙ্গে এখনও কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি এবং ওই প্রতিবেদন আমাদের কাছে সরবরাহও করা হয়নি। ফলে প্রতিবেদনটি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ বিষয়ে কখনো বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের মতামত বা তথ্য জানতে যোগাযোগ করেনি।
আদানি পাওয়ার বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করছে উল্লেখ করে আদানি পাওয়ার বলে, আমরা নিরবচ্ছিন্ন, উচ্চমানের এবং তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক বাজার দামে (আমদানি করা সমজাতীয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে) বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছি। বিপুল অঙ্কের বকেয়া থাকা সত্ত্বেও আমরা বিদুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রেখেছি, যখন অন্য অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে কিংবা বন্ধ করে দিয়েছে।
বকেয়া অর্থ পরিশোধে বিলম্বের কারণে আমাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
২০২৪ সালের পাঁচ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিলো, যারা গত ২০ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।