ঢাকায় ইডিডি পুনর্বহাল, সিলেটে দ্বিতীয় ইডিএস চালু

ঢাকায় যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে পুনর্বহাল হয়েছে এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন ডগ (ইডিডি) পদ্ধতির অনুমোদন। একই সঙ্গে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস) চালুর মাধ্যমে দেশের রপ্তানি কার্গো নিরাপত্তা সক্ষমতায় বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেবিচকের ধারাবাহিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী রপ্তানি কার্গোতে ইডিডি পদ্ধতি ব্যবহার করে স্ক্রিনিং পরিচালনার অনুমোদন পুনর্বহাল হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা যাচাই আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য হবে। পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে বিলম্ব ও অতিরিক্ত পুনঃপরীক্ষার ঝুঁকি কমবে এবং রপ্তানিকারকদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে।

বেবিচক জানায়, ২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থার্ড কান্ট্রি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সিকিউরিটি ভ্যালিডেটেড রেগুলেটেড এজেন্ট (আরএ-৩) ভ্যালিডেশন অর্জন করে। এরপর থেকে ইডিএস, এক্স-রে, ইটিডি এবং ইডিডি পদ্ধতিতে রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং পরিচালিত হয়ে আসছে।

তবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি) সরাসরি যুক্তরাজ্যগামী কার্গোর ক্ষেত্রে ইডিডি পদ্ধতির অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। পরে বেবিচকের কূটনৈতিক ও কারিগরি সমন্বয় এবং ডিএফটি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে পুনরায় এ অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হয়।

এদিকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় ইডিএস চালুর ফলে রপ্তানি কার্গো স্ক্রিনিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে স্ক্রিনিং কার্যক্রম আরও দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দ্বিতীয় ইডিএস চালুর ফলে কার্গো প্রক্রিয়াজাতকরণে সময় কমবে, বাড়তি চাপ মোকাবিলা সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে। এতে নতুন নতুন এয়ারলাইনস এয়ার ক্যারিয়ার ক্যারিং এয়ার কার্গো অ্যান্ড মেইল ফ্রম থার্ড কান্ট্রি এয়ারপোর্ট টু ইউরোপিয়ান কান্ট্রিজ (এসিসি-৩) ভ্যালিডেশন অর্জনে আগ্রহ প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২১ সালে আরএ-৩ ভ্যালিডেশন অর্জনের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি রপ্তানি কার্গো কার্যক্রম শুরু করে। কিছু সময় বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে পুনরায় নিয়মিত কার্গো অপারেশন চালু রয়েছে।

বেবিচক আশা করছে, এসব উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে সরাসরি রপ্তানি কার্গো পরিবহনে সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।