যে কোনো সময় চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের। এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবার গড়ে বেতন বাড়তে পারে শতভাগ পর্যন্ত এবং প্রথম ধাপে মিলবে বর্ধিত মূল বেতনের পুরোটাই। যা কার্যকর হবে চলতি বছর থেকেই। এরই মধ্যে চলছে শেষ ধাপে যাচাই বাছাইয়ের কাজ।
দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বেতন পান সবশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী। তাই গেল ১১ বছরের মূল্যস্ফীতিসহ অন্যান্য সূচক বিবেচনায়, বেতন বাড়ানোর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এ জন্য পে কমিশন গঠন করে চূড়ান্ত সুপারিশও রেখে যায় অন্তবর্তী সরকার। কিন্তু আর্থিক টানাটানি আর সিদ্ধান্তের দোলাচলে, এখনও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিএনপি সরকার।
এবার চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পথে কাঙ্ক্ষিত নবম পে স্কেল প্রস্তাব বাস্তবায়নের। এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে, কম রাজস্ব আহরণ আর বাড়তি পরিচালন ব্যয়ের এই সময়ে আরও কিছুটা সাবধানে এগুতে চায় সরকার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটা আমাদের ম্যাক্রো সিচুয়েশনকে বড় রকমের দুশ্চিন্তায় ফেলে দেবে। বেতন বাড়ানের যৌক্তিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে আমরা বাজেটের মধ্যে এটি কততুটু এফোর্ড করতে পারব সেটা চিন্তা করতে হবে। এটি যেন ব্যাংক খাতে ঋণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে না ফেলে।
সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, পে স্কেলের মূল চ্যালেঞ্জটা হলো সরকারের আর্থিক সক্ষমতা। এই বিবেচনা সরকারকে তো করতেই হবে। বেতন বৃদ্ধিটা কোনভাবে করলে আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে তা ধারণ করা যায় সেটি দেখতে হবে। কারণ বেতন বৃদ্ধির বিষয়ের সাথে আইএমএফের চুক্তিও নেগোসিয়েশন হবে।
নবম কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে ২০তম গ্রেডে। এছাড়া দ্বিগুণের ওপরে বা ১০৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে প্রথম গ্রেড বা সচিবদের বেতন। এর ফলে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে পুরোপুরি বাস্তবায়নে। তবে সেই অর্থের আংশিক যোগান হিসেবে, বাজেটেও রাখা হয়েছে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ। যা দিয়ে প্রথম বছরে অন্তত মূল বেতনের শতভাগ যোগান দিতে চায় সরকার। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে বাস্তবায়নে হাত দিলে, আরও বেশি ঋণনির্ভর হতে হবে সরকারকে।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে শুধু বেতন ভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৯ হাজার কোটি টাকার ওপরে। যা আরও বাড়বে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে।