ব্যাংক খাত সংস্কার ও একক ভ্যাটহারে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চায় আইএমএফ

প্রতিটি ব্যাংকের জন্য আলাদা সংস্কারের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছে আইএমএফ। একই সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাটহার বাস্তবায়ন করা হবে কি না তারও জবাব চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সফর শেষে, অর্থ সচিব ও গভর্নর বরাবর লেখা চিঠিতে এসব বিষয় উল্লেখ করে সংস্থাটি। একই সাথে, কোন কোন খাত থেকে কর অব্যাহতি সুবিধা তুলে নেওয়া হবে সে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

নতুন ঋণচুক্তির আলোচনা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশ সফর করে আইএমএফ। নানা বিষয়ে বৈঠক হয় অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সাথে। সফর শেষে খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংক ব্যবস্থা ও রাজস্ব আহরণের দুরবস্থাকে অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্ণিত করে সংস্থাটি।

তবে সেখানেই থেমে যায়নি ঋণচুক্তির আলোচনা। বরং সফর শেষে অর্থ সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লেখা চিঠিতে চাওয়া হয় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। বিশেষ করে প্রতিটি ব্যাংকের জন্য সংস্কার পদক্ষেপ কী হবে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও রূপরেখা চেয়েছে সংস্থাটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও আইএমএফের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা এভাবে রাখলে দেশের ভয়ানক ক্ষতি হবে। ব্যাংক খাত পুরনো মালিকদের হাতে ফেরত দেওয়া যাবে না। নইলে তা আরও ধ্বংস হবে। সরকারের এমনভাবে কাজ করা উচিত যাতে এ মানুষের আস্থা ফিরে আসে এবং ব্যাংকিং খাত আবার ঘুরে দাঁড়ায়। সেই ক্ষেত্রে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা এবং অন্যান্যদের সহযোগিতা আমরা পেতে পারবো।

https://ekattor.tv/business/93961/%E0%A6%9A%E0%A7%82%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A5%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%AE-%E0%A6%AA%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A7%8B-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BC

শুধু ব্যাংকখাত নয়, রাজস্ব সংস্কারেও স্পষ্ট বার্তা চায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। চিঠিতে বলা হয় একক ভ্যাটহার ১৫ নাকি অন্য কোনো হার হবে সেটি জানাতে হবে। পাশাপাশি কোন কোন খাতে করছাড় চালু রাখা অথবা বাতিল করা হবে রোডম্যাপ দিতে হবে সে বিষয়েও। এছাড়া রাজস্ব খাতের অটোমেশনের কাজ শেষ করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও জানতে চাওয়া হয়েছে। রয়েছে করের আওতা বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব কঠিন শর্ত বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থেই বাড়তি নজর দেয়ার পরামর্শ তাদের।