চলতি বছরের নয় মাসে ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা লোকসান করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। যার মধ্যে কেবল শেষ তিন মাসেই এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটিতে। আর প্রধান কার্যালয়-নিয়ন্ত্রিত শাখাগুলোর লোকসানের অঙ্ক ছাড়িয়েছে পৌনে ৩ হাজার কোটি টাকা।
এছাড়া, পাঁচ মাসেও গঠিত হয়নি ব্যাংটির পূর্ণাঙ্গ বোর্ড। ফলে সার্বিক বিচারে বড় হচ্ছে আস্থার ঘাটতি। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে আটকে আছে প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর পর্ষদ ও লুটের অর্থ উদ্ধার।
এদিকে রেমিট্যান্স আহরণ, দেশব্যাপী বিস্তৃত কার্যক্রম ও আস্থার বিচারে দীর্ঘদিন উপরের সারিতে ছিল ইসলামী ব্যাংক। কিন্তু, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গোষ্ঠী। এরপর অনিয়ম ও লুটপাটে বিপর্যস্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগলেও কাটেনি সংকট।
২০২৫ সালে মুনাফায় ফিরলেও, চলতি বছর থেকে আবারও শুরু হয় লোকসান। ফলে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর-পরবর্তী নিট লোকসান দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শেষ তিন মাসেই ছিলো ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল প্রায় ৭৯ কোটি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায়, আস্থা ফিরছে না গ্রাহকদের।
সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থা ফিরে পাওয়াটা কঠিন। তবে ব্যাংকটির ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। এখনো প্রতিষ্ঠানটির ভালো অ্যাসেটের পরিমাণ বেশ বড় এবং সেটাই যথেষ্ট হবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।
শুধু নিট নয়, বড় করপোরেট বিনিয়োগ থেকে আয় বন্ধ হওয়ায় নয় মাসে প্রধান কার্যালয়-নিয়ন্ত্রিত শাখাগুলোর পরিচালন লোকসান হয় পৌনে ৩ হাজার কোটি টাকার ওপরে। আর গত বছর সাড়ে ৩শ কোটি টাকা মুনাফা করা নোয়াখালী জোন, এবার গুণেছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা লোকসান।
এছাড়া, এই সময়ে নিট সম্পদমূল্যও কমেছে প্রায় অর্ধেক। অর্থাৎ, ৭ হাজার কোটি টাকা থেকে তা নেমে এসেছে সাড়ে ৩ হাজারে। বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক সহায়তা বা পুনর্গঠনের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন খেলাপি বিনিয়োগ আদায় ও দায়ীদের জবাবদিহি। সেইসঙ্গে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দ্রুতই কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ গঠনের তাগিদ বিশ্লেষকদের।