ইরানের সাথে অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও তেহরানকে সহায়তার অভিযোগে কানাডার আট কোম্পানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দিয়েছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এই কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানি অর্থনীতি ও অবৈধ কার্যক্রমে গোপন আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছিল।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, কানাডা কোনোভাবেই এমন নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না, যা ইরান ও তাদের প্রক্সিগুলোর জন্য নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সুবিধা দেয়।
কানাডার মনিটরিং ও ফিনট্রাক-এর পদক্ষেপ:
কানাডার আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা 'ফিনট্রাক' জানিয়েছে, ভার্চুয়াল কারেন্সি বা ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কাজ করা সন্দেহভাজন ব্যবসার ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ফিনট্রাক প্রায় ১৬১টি মানি সার্ভিস ব্যবসার নিবন্ধন বাতিল করেছে, যা গত তিন বছরের মোট বাতিলের সংখ্যার চেয়েও বেশি। তবে, কানাডার প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আর্থিক জরিমানা ছাড়া অন্যান্য কমপ্লায়েন্স বা নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন:
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে মার্কিন ও কানাডা সরকারের চলমান শীতল সম্পর্কের বড় ভূমিকা আছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ও পাল্টা শুল্কারোপের জেরে সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে মার্কিন অর্থমন্ত্রী কানাডাকে কটাক্ষ করে বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধাগুলো পেতে চায়, কিন্তু এর দায়িত্ব নিতে চায় না।
অন্যদিকে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, কানাডা যদি মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধ করতে চায়, তবে রিয়েল এস্টেট ফার্ম ও আইনজীবীদের মতো অর্থ পরিচালনা করে এমন অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তদারকি আরও জোরদার করা উচিত।