দিনভর টানাহেঁচড়া করেও ব্র্যাক ব্যাংক থেকে উল্কা গেমসের কর ফাঁকির ৫০ কোটি টাকা আদায় করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এমন আচরণ ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, আদালতের আদেশ থাকায় টাকা দেয়া যায়নি।
উল্কা গেমস নামে একটি অনলাইন জুয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগে দুই বছর আগে তদন্ত শুরু করে এনবিআরের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইসি। টাকা নিয়ে কোম্পানিটি যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য উল্কা গেমসের ব্র্যাক ব্যাংকে থাকা ৫৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করে সিআইসি। তদন্তে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ফাঁকির প্রমাণ পায় সংস্থাটি।
মঙ্গলবার অ্যাকাউন্ট সচল করে টাকা আদায়ে কর অঞ্চল-১৫ কে নির্দেশনা দেয় সিআইসি। আদেশ পেয়ে ব্যাংকের গুলশান শাখায় যান কর্মকর্তারা।
কর অঞ্চল-১৫ এর উপ কমিশনার ফারজানুল ইসলাম জানান, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্যাংক। পরে ব্যাংকে যান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। রাত দশটা পর্যন্ত চলে আলোচনা করে দুপক্ষ।
ব্র্যাক ব্যাংকের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার রশীদ আহমেদ জানান, ব্যাংকে থাকা টাকা নিয়ে মামলা চলছে উল্কা গেমস ও ভারতীয় কোম্পানি মুনফ্রগের মধ্যে। মামলার জেরে এই টাকা লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। এনবিআর এই টাকা পাবে কিনা সে বিষয়ে শুনানি হবে ৫ মে।
পরে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ব্যাংক ছাড়েন কর কর্মকর্তারা। তারা জানান, সরকারের পাওনা আদায়ে অসহযোগিতাকারী সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
‘মুনফ্রগ ল্যাবস’ নামের ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে দেশে অনলাইনে বিভিন্ন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে একটি চক্রের ছয়জনকে ২০২২ সালে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
ওই র্যাব জানায়, কম্পিউটার বা মোবাইল গেমের নামে অনলাইনে জুয়া পরিচালনা করে ২০০ কোটি টাকা দেশ থেকে বিদেশে সরিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
অনলাইনে খেলা যায়, এমন গেম বানানোর কথা বলে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কাছ থেকে বিনিয়োগের অনুমতি নেয় মুন ফ্রগ ল্যাবস কোম্পানি। পরে উল্কা গেমস লিমিটেড নামে কোম্পানি খুলে অনলাইন জুয়া ‘তিন পাত্তি গোল্ড’, ‘কেকে পাত্তি’, ‘তাস পাত্তি’ ও ‘তিন পাত্তি এইচ প্রো’ চালু করে।
পরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কর ফাঁকির কথা উঠে আসে।