রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক খাতের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের যুগপৎ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত আলাদা আলাদ প্রজ্ঞাপন ও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জারি করা নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, সোনালী ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও মো. শওকত আলী খান, জনতা ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও মো. মজিবর রহমান এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির এমডি কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বাকি মেয়াদ বাতিলের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ ও সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং নিজ নিজ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী বিধিগত ও আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
নথি অনুযায়ী, মো. শওকত আলী খানকে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিন বছরের মেয়াদে সোনালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। একই বছরের ৭ নভেম্বর জনতা ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. মজিবর রহমান এবং ২৪ ডিসেম্বর রূপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পান ওয়াহিদুল ইসলাম। সে হিসাবে তাঁদের প্রত্যেকের চুক্তির মেয়াদ প্রায় এক বছর করে বাকি থাকলেও সরকার তা আগেই বাতিল করল।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় এই পরিবর্তন দেশের ব্যাংক খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত খেলাপি ঋণ, কাঙ্ক্ষিত ঋণ আদায় না হওয়া, মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং সুশাসনের অভাবের মতো নানা জটিল চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে শীর্ষ পদে এই রদবদল বেশ গুরুত্ব বহন করছে।
এদিকে আদেশে চুক্তি বাতিলের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। চিঠিতে শুধু ব্যাংক কোম্পানি আইন ও পর্ষদের চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।