আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে আইএমএফের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদের বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর ঋণের অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় পর্ষদের বৈঠক শুরু হয়। ঋণ কর্মসূচির আওতায় দেওয়া শর্ত অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব না হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করায় দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে সম্প্রতি ঢাকা সফর করে যাওয়া আইএমএফ মিশন।
এর আগে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, আইএমএফের বোর্ড সভায় দ্বিতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হবে। ফলে শিগগির এই কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পাওয়া যাবে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে চলতি মাসে আরও প্রায় ৮০ কোটি ডলার পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরে এসব সংস্থার কাছ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা করছে সরকার। এসব অর্থ যুক্ত হলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বাড়বে।
মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আইএমএফ মিশন সরকারের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছেছে মানে তারা দ্বিতীয় কিস্তির ছাড়ের সুপারিশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যেটুকু জানা গেছে, দ্বিতীয় কিস্তি অনুমোদনের সময় ডিসেম্বরভিত্তিক রিজার্ভ এবং রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হবে। তবে দ্বিতীয় কিস্তির ক্ষেত্রে নির্বাচন বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির যুক্তিতে কিছুটা ছাড় পাওয়া গেলেও নির্বাচনের পর অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন পড়বে। নইলে পরবর্তী কিস্তিগুলোর জন্য ছাড় নাও পাওয়া যেতে পারে।
আইএমএফ অর্থনীতির সংকট মোকাবিলায় এ বছরের জানুয়ারিতে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করে। অনুমোদনের পরপরই প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার ছাড় করে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে মোট সাত কিস্তিতে পুরো অর্থ দেওয়ার কথা।
দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের জন্য গত জুনভিত্তিক বিভিন্ন সূচকে শর্ত পালনের অগ্রগতি দেখতে গত ৪ অক্টোবর আইএমএফের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে একটি মিশন ঢাকায় আসে। তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দপ্তরের সঙ্গে টানা ১৬ দিন বৈঠক করে।
তবে রিজার্ভ এবং রাজস্ব আয় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিশনকে জানানো হয়, অন্যান্য শর্তের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে দুটি শর্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের পর এ বিষয়ে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই কারণ দেখিয়ে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণে মার্চ পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়।
অন্যান্য শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে গত ১৯ অক্টোবর বিবৃতিতে মিশন জানায়, ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের জন্য প্রথম পর্যালোচনা শেষ করতে বিভিন্ন নীতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছে। প্রথম পর্যালোচনা শেষ হলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় কিস্তির ঋণ পাবে। তবে আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।