বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় জড়িত আছে কৃষি-খাদ্য-যোগাযোগ ও বাণিজ্যসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও সংস্থা। তাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে নীতি প্রণয়ন ও বাজার তদারকি ছাড়া একক ভাবে খুব বেশি কিছু করার নেই।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক নীতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি।

পণ্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে ধারবাহিকভাবে গেলো ৯ মাস ধরে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি। ডলার সঙ্কট বা বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে যেমন পণ্যের দাম বেড়েছে, তেমনি দেশে উৎপাদিত পণ্যেরও দাম ঊর্ধ্বমুখী।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের তীর ঘুরে ফিরে ছোঁড়া হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দিকে। কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন ও মজুদের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। একই বাস্তবতা প্রাণিজ খাদ্যপণ্যের বেলায়ও। এককভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আছে কী?

এই প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান একাত্তরকে বলেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমাতে চাই, তাহলে কৃষি মন্ত্রণালয়কে অনেব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সরবরাহ চেইন বাড়াতে হবে। খাদ্য বাইরে থেকে আমদানি করতে হলেও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতামত দরকার হয়। অন্যদিকে স্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে মুদ্রানীতির ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আবার আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়ে গেলে সেখানে এনবিআরের খানিকটা ভূমিকা লাগে তাদের শুল্ক যুক্তিযুক্ত করার জন্য। সুতরাং এটা কোনো একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এর জন্য একটা সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

ড. আতিউর রহমান

গেলো এক বছরে কয়েক দফায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে বেড়ে গেছে কৃষিজ সব ধরনের পণ্যের উৎপাদন খরচ, সাথে যোগ হয়েছে পরিবহনের বাড়তি ভাড়া। আছে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি। যা নিয়ন্ত্রণের এখতিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। সরকারি উদ্যোগে রেলপথে সবজি ও কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবিচ্ছিন্ন রাখা জরুরি বলেও জানান অর্থনীতিবিদরা।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. এম আসাদুজ্জামান একাত্তরকে বলেন, ট্রাকে আনার খরচটা কেবল যানবাহনের খরচ না। রাস্তায় আরও অনানুষ্ঠানিক খরচ আছে। সেই খরচগুলো যদি না থাকতো, বা কম হতো বা রোধ করা যেতো তাহলে এতটা হতো না। সারাদেশেতো রেল আছে, যেমন সবজির মূল মোকাম সেখান থেকে যদি প্রতিদিন একটা করে রেল আসে বা দুটো মালবাহী গাড়ি আসে যেটাতে করে সবজি আসলো তাহলে কিন্তু খরচটা স্বাভাবিকভাবে কমে যাবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. এম আসাদুজ্জামান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান রেলের পাশাপাশি নদীপথের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু রেল নয়, আমাদের নদীপথও কিন্তু সস্তা। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গেলে তথ্যভাণ্ডারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে এখনো অ্যাগ্রিকালচার প্রাইস কমিশন গড়ে ওঠেনি। যেটা ভারতে আছে।  

উৎপাদক, আমদানিকারক, পাইকারী থেকে আড়ৎদার সব ব্যবসায়ীর আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হলে কোন পর্যায়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে সেটি চিহ্নিত করা সহজ হবে বলেও মনে করেন তারা।