চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চার শতাংশ হতে পারে: এডিবি

চলতি ২০১৬-২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি মাঝারিভাবে পুনরুদ্ধার হয়ে চার শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসার পাশাপাশি ভোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রত্যাশায় এ প্রবৃদ্ধির আভাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনা ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও)-সেপ্টেম্বর ২০২৬’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছিলো। তবে এ প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। তবে বহিরাগত ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এই পুনরুদ্ধার এখনও কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আরও শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে কাঠামোগত সংস্কার ত্বরান্বিত করার এটাই উপযুক্ত সময়। এসব সংস্কারের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এডিবি বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ববর্তী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৮.৭ শতাংশে নেমেছিলো। তবে চলতি ২০১৬-২০২৭ অর্থবছরে এটি আবারও বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

জ্বালানি সঙ্কট, উচ্চ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়, সম্ভাব্য জাহাজ চলাচলে বাধা, খাদ্যমূল্যের ওপর ‘এল নিনো’র বিলম্বিত প্রভাব এবং মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে শিথিল করার কারণে মূল্যস্ফীতি উচ্চপর্যায়েই থাকবে বলে মনে করে এডিবি।

আমদানি প্রবৃদ্ধি রপ্তানিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণে চলতি অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০.৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ০.৩ শতাংশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। তবে তা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রবাহ, নমনীয় বিনিময় হার ও সুচিন্তিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।

এডিবি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে সেবা ও কৃষি খাত প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে। রেমিট্যান্সপ্রবাহের কারণে ব্যক্তিগত ভোগ বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা চাপে থাকবে। অন্যদেক, চড়া ঋণের সুদ, ঋণের সীমিত প্রাপ্যতা, জ্বালানি সঙ্কট ও দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদার কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, তেলের দাম বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ, রাজস্ব সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব, জলবায়ুজনিত অভিঘাত এবং প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে মন্দা ব্যবসাকে অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।