রাজধানীর মহাখালীর আমতলী এলাকায় খাজা টাওয়ারে আগুন লাগার চার ঘণ্টা পার হলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আটজনকে। মৃত্যু হয়েছে এক নারীর।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিটের ৯০ সদস্যসহ কাজ করছে বিমানবাহিনী, নৌ-বাহিনী, সেনাবাহিনী, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা।
এর আগে বিকেল ৪টা ৫৮ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।
আগুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এক নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত নারীর নাম হাসনা হেনা (২৭)। তিনি ওই ভবনের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। এছাড়া এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর থেকে মিডিয়া কর্মকর্তা শাজাহান সিকদার জানান, মহাখালীর খাজা টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ১৪ তলা ভবনটির ১৩ তলায় আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করছে।
তিনি জানান, শুরুতে অগ্নিকাণ্ডের খবরের তিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করলেও তীব্রতা বাড়ায় তাদের সাথে কয়েক ধাপে আরও ৮টি ইউনিট যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ১০ তলা থেকে ওপর পর্যন্ত ভবনের কাচের দেয়াল ভেঙে আগুন নেভানোর কাজ করছেন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিলো তা তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।
অন্যদিকে রাজধানীর মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন লাগায় দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, ওই ভবনে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার রয়েছে। আগুন লাগার কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ইন্টারনেট পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।
আগুন লাগার একঘণ্টা পর দেখা যায়, আগুন থেকে বাঁচতে বেশ কয়েকজন দেয়াল বেয়ে ভবনের বাইরে এসির ওপরে বসে আছেন। তাছাড়া ভেতরে আটকে পড়া অনেককে দেখা যায় সে সময়। ধোঁয়ায় মধ্যে তারা মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বেলে উদ্ধার কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।