রাজধানীর তেজগাঁও স্টেশনে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দিয়েছে নাশকতাকারীরা। পুড়ে যাওয়া একটি বগি থেকে মা-শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি নেত্রকোনা থেকে ছেড়ে আসে।
নিহতদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- নাদিরা আক্তার পপি (৩২) ও তার তিন বছরের শিশু সন্তান ইয়াসিন। বাকি দুইজন পুরুষ। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
সোমবার রাত ১১টার দিকে কমলাপুরের উদ্দেশ্যে নেত্রকোনা থেকে রওনা হয় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। ট্রেনটি ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এসময় তিনটি বগিতে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনের তিনটি বগিতে। এসময় যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। পরে ট্রেনটি তেজগাঁও স্টেশনে থামানো হয়।
পুলিশের এডিশনাল আইজিপি দিদার আহমেদ বলেছেন এটি একটি নাশকতার ঘটনা, তিনি জানিয়েছেন এর আগেও গাজীপুরে এমন নাশকতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগের ঘটনার দোষীদের আটক করেছে এবারও দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সরজমিনে দেখা যায় ট্রেনের তিনটি বগি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায়। বগিগুলো অপসারণ না করে আর ব্যাবহার করার কোন সুযোগ নেই। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে রেলের ইতিহাসে এমন আগুনের ঘটনা নজিরবিহীন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই ঘটনায় নিহত চারজনের ভেতর দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ রেলের বগিতে সিসিটিভি লাগানো হলে এবং ট্রেনে যদি লিখে দেয়া হয় ট্রেনের প্রতিটি বগি সিসিটিভির আওতায় রয়েছে তাহলে হয়তো এধরণের নাশকতা কমে আসবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে, মন্ত্রয়ালয় এ বিষয়ে দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার হোসেন জানান, নাশকতার কারণে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
আগুন নেভানো ও মরদেহগুলো উদ্ধারের পর ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গেলো ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে রেলে একাধিক নাশকতার ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর ভোরে গাজীপুরের শ্রীপুরে রেল লাইন কেটে ফেলায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়। নিহত হন একজন। আহত হন ১০ জনের বেশি।
১৬ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কমিউটার ট্রেনে আগুন দেয় নাশকতাকারীরা। এতে ট্রেনটির দু'টি বগি পুড়ে যায়। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ট্রেনটির আরেকটি বগি।
এছাড়াও ১৯ নভেম্বর জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী এলাকায় যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগিতে এবং ২২ নভেম্বর সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা উপবন ট্রেনের একটি বগিতে আগুন দেয় নাশকতাকারীরা।