বিএনপির হাফিজ-আলতাফের ২১ মাসের কারাদণ্ড

পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. হাফিজ উদ্দিন আহমদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং বিএনপির সাবেক নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. হানিফকে  ২১ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে পাঁচ  হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১১ সালে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার রায়ে বিএনপির ৮ জনের ২১ মাসের সাজা দিয়েছেন আদালত।

রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত রোববার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী। রায়ে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় ১১ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ আনা হয় যে, আসামিরা ২০১১ সালের ৪ জুন গুলশান থানার মহাখালী ওয়ারলেস গেট পানির ট্যাংকের সামনে রাস্তার ওপর অবৈধ সমাবেশ থেকে পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং তাদের ওপর আক্রমণ করেন। রাস্তার চলাচল করা গাড়ি ভাঙচুর করা ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে নাশকতা ও সহিংসতা চালানোর পর গত ৫ নভেম্বর সকালে গাজীপুরের টঙ্গি থেকে আলতাফ হোসেনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের বলেন, আগুন দেওয়া জনতা ব্যাংকের স্টাফ বাসের ড্রাইভার জাকির হোসেন আদালতে সাক্ষী বলেছেন, বাসটি যখন মহাখালী পানির ট্যাংকের সামনে পৌঁছলে বিএনপির একটি মিছিল গতিরোধ করে। তখন আসামিরা গাড়ির গ্লাস ভাংচুর করে।  পরে ভাঙা গ্লাসের ফাঁকা জায়গা দিয়ে গাড়ির ভেতর আগুন দেয়। তখন যাত্রীসহ আমরা দ্রুত গতিতে বাস থেকে নেমে যাই। পরে পুলিশসহ আগুন নেভানো হয়।

আসামি পক্ষের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ ও মো আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনার দিন এ মামলার আসামি আলতাফ হোহেন চৌধুরী তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী ছিলেন। তিনি কোনো অপরাধ করেন নাই। আদালতে সাক্ষীরা মিথ্যা বলেছে। রায়ে তারা আইনের বিচারটুকু পাননি।

রায় ঘোষনার পর আলতাফ হোসেনের পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করা হলে বিচারক তা নাকচ করে সাজা পরোয়ানা জারি করেন। আর পলাতক অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। 

এ মামলার দন্ডপ্রাপ্ত অন্য ৫ আসামিকে ৪২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, এম এ আওয়াল খান, রাসেল, মইনুল ইসলাম, বাবুল হোসেন ও আলমগীর বিশ্বাস।

মামলার আসামিদের মধ্যে ছিলেন- অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. হাফিজ উদ্দিন আহমদ, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. হানিফ, এমএ আউয়াল খান, সাবেক কমিশনার এমএ কাউয়ুম, মো. দুলাল, মো. রাসেল, মঈনুল ইসলাম, তোফায়েল আহম্মেদ ওরফে লিটন, মো. বাবুল হোসেন ওরফে বাবু, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে রাজু, মো. জাহাঙ্গীর শিকদার ওরফে বাবু, আরিফুল ইসলাম, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. সামসুল হক মিয়াজী, মো. বিপ্লব, মো. খুরশিদ আলম মমতাজ, মো. মোশারফ হোসেন ও মো. মাহাবুব।