গৃহকর্মীর মৃত্যুতে স্ত্রীসহ আসামি সাংবাদিক আশফাক 

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি আবাসিক ভবন থেকে পড়ে কিশোরী গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলায় আসামি হয়েছে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক। এ মামলায় তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে আসামি করা হয়েছে।

গৃহকর্মীর মৃত্যুর পর থেকেই পুলিশ হেফাজতে ছিলেন আশফাক দম্পতি। মামলা দায়েরের পর তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের নয়তলা বাড়ির নিচ থেকে প্রীতি নামের এক গৃহকর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত প্রীতি আশফাকের বাসায় কাজ করতেন। এর আগেও গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে গত বছর মোহাম্মদপুর থানায় তার নামে মামলা হয়েছিলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহজাহান রোডের ২/৭ নম্বর বাড়ির ৯ তলার বারান্দায় রেলিংয়ের সঙ্গে ঝুলছিলো গৃহকর্মী প্রীতি নামের ১৩ বছরের কিশোরী। বারবার বলার পরও বাড়িটির দারোয়ান দরজা খোলেননি। এক পর্যায়ে ওপর থেকে নিচে পড়ে যায় কিশোরীটি।

পরে খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ প্রীতির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে আশফাকুল হক দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তারা ঘুমিয়েছিলেন। পরে জেগে উঠে এ সম্পর্কে জানতে পারেন।

ঘটনার পর নিহত প্রীতি উরাংয়ের বাবা লোকেশ উরাং বাদী হয়ে আশফাক ও তার স্ত্রীকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি মাহফুজুল হক ভূঞা জানিয়েছেন, মামলায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিনি জানান, নিহত প্রীতি দুই বছর ধরে সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার শাশুড়ির বাসায় কাজ করতেন। তার বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার মিত্তিংগা গ্রামে।

ঘটনার পরই মঙ্গলবার ডেইলি স্টার পত্রিকার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের জ্যেষ্ঠ সহকর্মী ও নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় এক কিশোরী গৃহ সহায়কের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। দুর্ভাগ্যজনক এ ঘটনার জন্য আমরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।তদন্তে কী পাওয়া গেল, তা জানার অপেক্ষায় আছি আমরা।’

গত বছরের চার আগস্ট ওই একই ভবনের আট তলা থেকে পড়ে আহত হন আরেক শিশু গৃহকর্মী। ঘটনার দুইদিন পর শিশুটির মা সৈয়দ আশফাকুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শিশু নির্যাতন, পরিবারের সাথে দেখা করতে না দেওয়া এবং নিয়মিত খেতে না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তখন। পরে অবশ্য তদন্ত শেষে মামলা থেকে আশফাকুল হককে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয় পুলিশ।