স্কুলের মাঠে পাতাল রেলের স্টেশন, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

মেট্রোরেলের পাতাল অংশের স্টেশন তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের কিছু জায়গা। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ শিক্ষার্থীরা। 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, মাঠ রক্ষা করতে প্রয়োজনে এমআরটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে। আর এমআরটির প্রকল্প পরিচালক বলছেন, নতুন করে আলোচনার সুযোগ নেই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী মেট্রোরেলের লাইন-১ এর পাতাল অংশের স্টেশন তৈরি করা হয়, তবে মাঠের শেষ প্রান্তে দেয়াল ঘেঁষে যেখানে শিক্ষার্থীরা খেলছে, সেই জায়গাটা ভাঙা পড়বে।

মেট্রোরেল সংশ্লিষ্টরা জানান, গেলো বছর থেকে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর আর এমআরটি কর্তৃপক্ষের চিঠি চালাচালির পর জানুয়ারিতে মতিঝিল বালক স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠায় এমআরটি। ইতিমধ্যে সরেজমিন মূল্যায়ন করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৮ শতাংশ স্কুল মাঠের ১৯ শতাংশ জায়গা নেবে এমআরটি। 

মতিঝিল বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ান তাহেরা বলেন, স্টেশন বানাতে  ক্লাস রুম শহীদ মিনার ভাঙা পড়বে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, এই এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ এই স্কুল মাঠ । এই মাঠেতে স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকার ছেলে-মেয়েরা খেলে। এই মাঠের জায়গাতে মেট্রো স্টেশন হলে একার ছেলে মেয়েদের আর খেলাধুলার সুযোগ থাকবেনা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, চিঠিটা পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়ে আবার কথা বলবো এবং সম্ভব হলে মেট্রো রেলের সঙ্গে কথা বলবো। মাঠ রক্ষায় আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।

এমআরটির লাইন-১ এর প্রকল্প পরিচালক আবুল কাশেম ভুঁইয়া বলেন, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষের সুবিধায় রাস্তার অবস্থান বিবেচনায় এ জায়গাটিই সবচেয়ে উপযোগী।

তিনি বলেন, উপযুক্ত স্থান মনে করেই এখানে স্টেশন বানানোর জন্য জায়গা নির্বাচন করেছি। সবাই এখানে উপকৃত হবে। মাঠ রক্ষার জন্য পরিকল্পনায় শুরুর দিকেই পরিবর্তন এনে অল্প জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

দুই ফেব্রুয়ারি দেশের প্রথম পাতাল রেলের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রূপগঞ্জের পূর্বাচল সেক্টর-৪ এ প্রকল্প এলাকায় নির্মাণকাজের উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করা হয়।

সরকার প্রথমবারের মতো বিমানবন্দর-কমলাপুর এবং পূর্বাচল-নতুন বাজার-রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ রুটের মধ্যে ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটারের পাতাল ও উড়াল এমআরটি লাইন-১ নির্মাণ করবে। ডিএমটিসিএল এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণে বলা হয়, এমআরটি লাইন-১ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে ২৪ মিনিট সময় নেবে। ১২টি পাতাল স্টেশনে বিরতি ও সাতটি উড়াল স্টেশনে বিরতিসহ নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল যেতে ২০ মিনিট সময় লাগবে।

এতে আরও বলা হয়, এমআরটি লাইন-১ চালু হওয়ার পর এই রুটে ৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। এমআরটি লাইন-১ পাতাল স্টেশন চার তলাবিশিষ্ট হবে। টিকিট কাউন্টার এবং অন্যান্য সুবিধাদি প্রথম বেসমেন্ট লেভেলে থাকবে। প্ল্যাটফর্মটি হবে দ্বিতীয় তালায়। উড়াল স্টেশনের টিকিট কাউন্টার ও প্ল্যাটফর্ম হবে চতুর্থ তলায়। উড়াল ও পাতাল উভয় স্টেশনেই লিফট, সিঁড়ি এবং এসকেলেটর থাকবে।

প্রকল্পটির জন্য জাপানের টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে ডিএমটিসিএল। প্রকল্পটি ১২টি প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়িত হবে।