বাকপ্রতিবন্ধী নাদিম হোসেন (২৮) হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন তার স্বজনরা। মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবির পাশাপাশি মূল আসামি পিয়াসকে দ্রুত গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান তারা।
এর আগে গেলো ১১ জানুয়ারি ভোরে রাজধানীর সবুজবাগ থানা এলাকায় নাদিমকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সবুজবাগ থানা এলাকায় পিয়াস, কাউসার, রাব্বিসহ আট থেকে ১০ জন বাসাবো বালুর মাঠে বিপরীত পাশে একটি ১০ তলা নির্মাণাধীন ভবনে নাদিমকে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। নাদিম টাকা দিতে না পারলে তাকে জানে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি দেন তারা। এসময় তারা নাদিমের স্বর্ণের চেইন, আংটি ও মোবাইল নিয়ে নেয় এবং নাদিমকে তার স্ত্রী থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলেন।
নাদিম টাকা আনতে অস্বীকার করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান পায়ের উরুতে আঘাত করা হয়। এসময় নাদিম মুখ দিয়ে শব্দ করলে আসামিরা তার মাথা বালুতে চেপে ধরেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান নাদিম।
পরে হত্যাকারীরা নাদিমের মরদেহ সিএনজিতে করে গুম করার চেষ্টা করেন। কিন্তু গুম করতে না পারায় নাদিমের মরদেহ ওহাব কলোনির আরবি ফাজিল মাদ্রাসার সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। নাদিমের বোন নাসিমা খবর পেয়ে ছুটে যান কলোনিতে। সেখানে নাদিমকে খুঁজে না পেয়ে পরে জানতে পারেন, নাদিমের মরদেহ কলোনি ক্লাবের গলিতে পড়ে আছে।
নাদিমের স্বজনরা মানববন্ধনে অভিযোগ করেন যে, হত্যাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এর আগে হত্যাকারীরা নাদিমকে মাদক কেনাবেচার প্রস্তাব দিয়েছিলো।
সুরতহাল প্রতিবেদনে সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক এসআই মো. নুরুল ইসলাম জানান, ওহাব কলোনি মাদ্রাসা গলি থেকে ভোর সাড়ে পাঁচটায় নাদিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ডান পায়ের উরুতে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতে মৃত্যু হয়েছে বলে সুরতহালে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তার রাব্বিসহ অজ্ঞাত অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, তাদের নামে সবুজবাগসহ আশেপাশের একাধিক থানায় চাঁদাবাজি, মাদক, চুরিসহ নানা ধরনের মামলা রয়েছে।
রিমান্ডে আসামিদের স্বীকারোক্তির পর গাজী ওরফে হৃদয় গাজীর হেফাজত থেকে একটি ১০ ইঞ্চি লম্বা সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।