ব্ল্যাক কার্বন, সিসা, ক্রোমিয়ামসহ নানা ধরনের ধাতবের উপস্থিতি মিলেছে রাজধানীর বাতাসে। আছে আর্সেনিকও। এসব ধাতবের উপস্থিতি কারণে কিডনি নষ্ট হতে পারে, হতে পারে ক্যান্সারও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।
ক্যাডমিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক, ম্যাংগানিজ, কপার রাজধানীর বাতাসে এসব ধাতব উপস্থিতি এখন দ্বিগুণের বেশি। সূক্ষ্ম ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা শ্বাসপ্রশ্বাস, খাদ্য ও পানীয়র মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ২৪ ঘণ্টা রাজধানীর বায়ু সেবন করলে ফুসফুসে এমন কালো আস্তরণ পড়ে যায়। গাড়ির কালো ধোয়া, রাস্তার ধুলা থেকে উৎপাদিত ক্ষতিকর এই সূক্ষ্ম কণা অজান্তেই দেহের ভেতর রোগের বাসা বাঁধছে।
বায়ু মান নিয়ন্ত্রণ গবেষক অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, বায়ু মান সূচকে শূন্য থেকে ৫০ যে ভালো বায়ু মানসূচক আমরা তার মধ্যে অবস্থান করছি মাত্র ৪৫ দিন। অপরদিকে আমরা ৫৫ দিন অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বায়ু গ্রহণ করছি।
রাজধানীতে গেল দশ বছরে মাত্র ৫৭ দিন বিশুদ্ধ বাতাসের রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বাঁকী সময় রাজধানীর বাতাস ছিলো মানমাত্রার চেয়ে চার-পাঁচগুন বেশি।
বায়ুমান নিয়ন্ত্রণ গবেষক অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, রাজধানীর বাতাস যখন আমাদের নাকের মধ্যে দিয়ে ঢুকে, তখন গলার মধ্যে এ দূষিত বাতাস আটকে যায়। গলা খুসখুস করে, ব্যথা করে। তারচেয়ে ছোট উপাদানগুলো আমাদের ফুসফুসে যায়। এ কারণে আমাদের ফুসফুসের ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়, শ্বাসকষ্ট এবং সিওপিডি হয়।
এ গবেষক বলেন, আরও ছোট উপাদানগুলো আমাদের রক্তে চলে যায়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বস্তু থাকে। সেটা আমাদের হার্টের ক্ষতি করে, কিডনির ক্ষতি করে। এক সময় কিডনি ড্যামেজ হয়ে যায়।
রাজধানীতে গেলো ১০ বছরে মাত্র ৫৭ দিন বিশুদ্ধ বাতাস রেকর্ড করা গেছে। অন্য সময় ঢাকার বাতাস ছিলো মানমাত্রার চেয়ে চার-পাঁচগুণ বেশি ক্ষতিকর।
বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কমন্ত্রী জানান, দেশের বায়ু দূষণ মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বায়ু দূষণ রোধে সড়ক ও পরিবহণ, এলডিআরডি, শিল্পসহ প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে আইন মানতে হবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।
বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা একটা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করবো। কারণ আমরা চাই না এটি শুধু একটা পরিকল্পনা পর্যায়ে থাকুক। এটাকে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে রোড ম্যাপটা কী হবে, কোন মন্ত্রণালয়ের কী দায়িত্ব হবে সেটা পরিষ্কার করতে চাই।
পরিবেশ রক্ষা করতে না পারলে শুধু উন্নয়ন করে টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ বলেও জানান তিনি।