প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বাজারের চেয়ে কম দামে গরুর মাংস, দুধ, ডিম বিক্রি শুরু করায় স্বস্তির পাওয়ার কথা জানালেন সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, ঊর্ধ্বগতির বাজারে রমজানে কম দামের এই পণ্য বিক্রি কার্যক্রম সহায়ক হবে। তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় ক্ষোভও জানিয়েছেন অনেকে।
রমজানে রাজধানীর ২৫টি স্থানে পিকআপ কুলভ্যানে বাজার দরের চেয়ে কম দামে গরুর মাংস, দুধ, ডিম, মাছ বিক্রির উদ্যোগ নেয় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এছাড়াও রাজধানীর পাঁচটি স্থানে স্থায়ী দোকানেও মিলছে দুধ, ডিম ও মাংস।
সকালে খামারবাড়ির সামনের লম্বা লাইন দেখা যায়। মানুষের সারিই বলে দেয় বাজারের দামের সাথে পাল্লা দিতে পারছে না মানুষ। তাই তীব্র রোদ উপেক্ষা করেই দাড়িয়ে থাকা অল্প দামে পণ্য পাবার আশায়।
সকাল সাড়ে এগারোটায় আসে কাঙ্ক্ষিত পণ্য নিয়ে গাড়ি। গরু মাংস ৬০০ টাকা, খাসি ৯০০, ব্রয়লার মুরগি ২৫০, দুধ ৮০ আর ডিম ১১০ টাকা দরে দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
অল্প দামের এই পণ্যে পেয়ে কিছুটা স্বস্ত্বি পেয়েছে ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজারে ঊর্ধ্বগতির সাথে হিসাব মেলানো কঠিন। বাজারের চেয়ে দাম বেশ কম তাই রোদে কষ্ট হলেও নিতে হচ্ছে।
এক ক্রেতা বলেন, খাসির মাংস বাজারে ১২০০ টাকা। এখানে ৯০০ টাকা। অনেকদিন পর কিনলাম।
৬০০ টাকা গরু আর ৯০০ টাকা খাসির মাংস হওয়ায় স্বস্তি জানিয়েছেন অনেকে। বলেন, শুধু রমজানে নয় সারা বছরই যেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য এই সেবা চালু থাকে।
সংসদ সচিবালয়ে কর্মরত কবির হোসেন বলে, তিনি ২ লিটার দুধ, এক কেজি গরুর মাংস, এক কেজি মুরগির মাংস এবং এক ডজন ডিম কেনেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তিনি অসন্তুষ্ট নন।
তিনি বলেন, সরকার খুব ভালো একটা কাজ করেছে। অনেকটাই কম মূল্যে আমি এখান থেকে কিনতে পারলাম। যদিও অনেকক্ষণ আমাকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে তবুও আমি সন্তুষ্ট।
আবার তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার জন্য ক্ষোভও জানিয়েছেন অনেক ক্রেতা। নির্ধারিত সময়ে পণ্য দেয়ার দাবি জানান তারা।
স্বল্প মূল্যের এই বাজার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে বিক্রি। যতক্ষণ পর্যন্ত পণ্য থাকবে ততক্ষণই বিক্রি কার্যক্রম চলবে। প্রথম রমজান থেকে ২৮ রমজান পর্যন্ত এসব পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলবে।
রাজধানীর যে ২৫টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ পিকআপ কুলভ্যানে সুলভে এসব পণ্য বিক্রি হবে সেগুলো হলো–নতুনবাজার (বাড্ডা), কড়াইল বস্তি (বনানী), খামারবাড়ি (ফার্মগেট), আজিমপুর মাতৃসদন (আজিমপুর), গাবতলী, দিয়াবাড়ী (উত্তরা), জাপান গার্ডেন সিটি (মোহাম্মদপুর), ষাটফুট রোড (মিরপুর), খিলগাঁও (রেল ক্রসিংয়ের দক্ষিণে), সচিবালয়ের পাশে (আব্দুল গনি রোড), সেগুনবাগিচা (কাঁচাবাজার), আরামবাগ (মতিঝিল), রামপুরা, কালসী (মিরপুর), যাত্রাবাড়ী (মানিকনগর গলির মুখে), বসিলা (মোহাম্মদপুর), হাজারীবাগ (সেকশন), লুকাস (নাখালপাড়া), আরামবাগ (মতিঝিল), কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর-১০, কল্যাণপুর (ঝিলপাড়), তেজগাঁও, পুরান ঢাকা (বঙ্গবাজার), কাকরাইল।
স্থায়ী পাঁচটি বাজার হচ্ছে– মিরপুর শাহ আলি বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, নতুন বাজার (১০০ ফুট), কমলাপুর ও কাজি আলাউদ্দিন রোড (আনন্দবাজার)।