পুলিশের রিমান্ডে থাকা ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ আশ্রয়কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারের স্ত্রী মিতু হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবিতে ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
হারুন বলেন, মিল্টন সমাদ্দার রিমান্ডে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ সেসব বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার আশ্রয়কেন্দ্রের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে মিল্টনের স্ত্রীকে রোববার ডিবিতে ডাকা হয়েছে। তার স্ত্রীকেও আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো।
চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। মানবপাচার, বাচ্চা শিশুর ওপর হামলা, দুটি টর্চার সেল গঠন, অসহায় মানুষের নামে সংগ্রহ করা অর্থ আত্মসাৎ, তাদের কিডনিসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরি করে বিক্রি, জাল মৃত্যুসনদ তৈরি এবং জমি দখলের মতো গুরুতর সব অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বুধবার সন্ধ্যার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
মৃত ব্যক্তিদের জাল মৃত্যুসনদ দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় বৃহস্পতিবার মিল্টন সমাদ্দারের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে প্রতারণা, মানবপাচার, নির্যাতন কয়েকটি অভিযোগ এনে দুটি মামলা করা হয়েছে মিরপুর মডেল থানায়। এক মামলার বাদী হয়েছে পুলিশ।
নিজের বাবাকে পিটিয়ে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসে মিল্টন সমাদ্দার ‘সাইকোতে পরিণত হয়েছেন’ মন্তব্য করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেসব বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে। তার উত্থান কীভাবে হলো, তথাকথিত মানবতার ফেরিওয়ালা কীভাবে হলেন, তার অর্থের উৎস কীভাবে আসে, কীভাবে সে দরিদ্র মানুষকে সংগ্রহ করতো এবং কেনইবা তাদের টর্চার সেলে এনে পেটাতেন- সবকিছুর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহার করে মিল্টন কীভাবে অর্থ উপার্জন করতেন এবং কারা তাকে সহয়তা করতেন তাদেরও শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, মিল্টনের তিন-চারটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। সেসব অ্যাকাউন্টে কারা টাকা পাঠাতেন, তদন্ত করে জানানো হবে।