মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) নির্মূলে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে র্যাব।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ঘিরে আরসার তৎপরতা নিষ্ক্রিয় করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে র্যাব। সেইসঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে যৌথ অভিযানেও প্রস্ততি রয়েছে।
বুধবার রাতে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশে গহিন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে আরসার এক কমান্ডারসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি অস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড ও রকেট শেলসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ।
এরপর বৃহস্পতিবার উখিয়া ও টেকনাফে অভিযান চালিয়ে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, এদের মধ্যে রয়েছে অস্ত্র ব্যবসায়ীও।
আরাফাত ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মূর্তিমান আতঙ্ক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা। তারা অপহরণ, লুণ্ঠন, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
এর আগে বিভিন্ন অভিযানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির ১১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে বিপুল বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল। র্যাবের অব্যাহত নজরদারি ও তৎপরতায় আরসা নেতৃত্বশূন্য হয়ে যায়।
কিন্তু বর্তমানে মিয়ানমারে অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনায় বাংলাদেশের দেশে অস্ত্র ও বিস্ফোরক প্রবেশ করার তথ্য মিলছে বলে জানান বাহিনীটির মুখপাত্র। বলেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতেই লাল পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরাফাত ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এ তৎপরতা নিষ্ক্রিয় করার জন্য স্থানীয় থানাসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত আছে, যখনই তথ্য পাচ্ছি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।