নাশকতার ক্ষত সরিয়ে স্বাভাবিক চেহারায় ফিরছে রাজধানী

কারফিউ শিথিলের সময় বেড়ে যাওয়ায় আগের মতোই ব্যস্ততা বেড়েছে ঢাকায়। সড়কে গণপরিবহন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে মানুষের চলাচল। স্বাভাবিক চেহারায় ফিরছে মহানগরী।

বিভিন্ন এলাকায় যানজটও দেখা গেছে। সীমিত পরিসরে কমিউটার ট্রেন চালানোর কথা থাকলেও যাত্রীদের নিরাপত্তা কথা চিন্তা করে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

তবে নগরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনো ভয় কাটেনি তাদের।

বৃহস্পতিবার সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কারফিউ শিথিলের দ্বিতীয় দিন। রাস্তায় ছিল অজস্র মানুষ, যানবাহনের চাপে মোড়ে মোড়ে জট দেখা যায়। 

dhaka3

কয়েকজন নগরবাসী জানিয়েছেন, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় টানা কয়েকদিন আটকে থাকার পর সুযোগ পেয়ে সবাই জরুরি কাজ সেরে নিচ্ছেন।

পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, গণপরিবহন কম বের হলেও, জায়গায় জায়গায় ব্যারিকেডের কারণে রাস্তা ছোট হয়ে গেছে। যে কারণে কয়েকটি এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। 

কোটা আন্দোলন ঘিরে সারাদেশে চালানো হয় ব্যাপক তাণ্ডব। হামলা, লুটপাট চলে রাষ্ট্রীয় ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। এতে রক্ষা পায়নি রাজধানীর জনপ্রিয় ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা মেট্রোরেলও। 

ব্যাপক নাশকতার ও সহিংসতার মধ্যে গত শুক্রবার মাঝরাত থেকে কারফিউ জারি করে সেনা মোতায়েন করা হয়। ঘোষণা করা হয় সাধারণ ছুটি।

people_market

অবশ্য কারফিউ জারির একদিন পর থেকেই কিছু সময় করে শিথিল করা হয়। বুধবার থেকে খুলে দেয়া হয় সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত। 

রাজধানী ঢাকাতে বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। এ সময়ে সাধারণ মানুষের কাজে অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন চলছে। এতে রাজধানীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে টানা অষ্টম দিনের মত বন্ধ রয়েছে ঢাকার সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ। স্টেশনে এসেও ফিরে গেছেন বহু যাত্রী। 

রেল কর্তৃপক্ষের বলছে, বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে সীমিত পরিসরে কমিউটার ট্রেন চালানোর কথা থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় তারা সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। 

যাত্রা বাতিল হওয়া অনেক যাত্রী টিকেটের টাকা ফেরত নিতে কমলাপুর স্টেশনে ভিড় করেন।