জুলাই-আগস্টের গণহত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানকে ধানমন্ডিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে আনা হয়েছে।
রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তাকে কাশেমপুর থেকে ধানমন্ডি সেফ হোমে নিয়ে আসা হয়। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ওসি আবুল হাসানকে তদন্ত সংস্থার হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি দেন।
গত ২০ জুলাই ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর কাজলায় কলেজ ছাত্র ইমাম হাসান তায়িম হত্যার ঘটনায় ওসি আবুল হাসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এই পুলিশ কর্মকর্তাকে।
১২ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে সবচেয়ে বড় গণহত্যা হয়েছিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায়। আহত অবস্থায় পড়ে থাকার পরেও পরে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়েছিল। প্রায় ৪ শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয় যাত্রাবাড়ী এলাকায়। সেই হত্যাকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান।
তার সাথে আরও বেশ কিছু অফিসাররা জড়িত ছিলেন এর মধ্যে ওসি তদন্ত জাকিরও একজন। তাঈম নামে একজন যুবককে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সময় ঠান্ডা মাথায় গুলি করা হয়। পরে তাকে আবারও নির্যাতন করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়।
তিনি বলেছেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য উদঘাটন করতে চাই। যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, কীভাবে কার নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো, কোন কোন অফিসারদের মাধ্যমে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, গোলাবারুদ কোত্থেকে আসলো, তারা নির্দেশ দিলো- এসব বিষয়ে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে আমরা অনুমতি চেয়েছি। অফিস চলা সময়ে ১৫ ডিসেম্বর একদিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।