দাবি আদায়ে আবারও সড়কে ফিরেছেন ট্রেইনি চিকিৎসকরা। মাসিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা করা বা নবম গ্রেডের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবরোধ করেন তারা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার সকাল ১০টার পর থেকে শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করে ট্রেইনি চিকিৎসকরা।
এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বটতলায় অবস্থান নেন তারা। এ সময় যৌক্তিক সমাধানের জন্য দুই ঘণ্টার সময়সীমা বেধে দেন তারা। ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের ব্যানারে বিভিন্ন মেডিক্যালের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকরা এ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীদের ‘চব্বিশের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘দাবি মোদের একটাই, ৫০ হাজার টাকা ভাতা চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে সড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
তাদের অভিযোগ, সরকারি চিকিৎসকরা নবম গ্রেডে বেতন পেলেও বৈষম্যের শিকার বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকরা। ট্রেইনি চিকিৎসকরা জানান, ঢাকা শহরে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে চলা খুব কষ্টকর। রোগীর ভালো সেবা নিশ্চিত করতে হলে ডাক্তারদের অবশ্যই ৫০ হাজার টাকা ভাতা দিতে হবে।
ট্রেইনি চিকিৎসক সাবিনা নাহার বলেন, বর্তমানে আমরা যে ভাতা পাই, তা দিয়ে চলা খুব কঠিন। পাশের দেশগুলোতে আমাদের পর্যায়ে যেসব চিকিৎসক রয়েছেন, তারা এক থেকে দেড় লাখ টাকা ভাতা পান। আমরা তো ৫০ হাজার টাকা দাবি করছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমাদের দাবি যৌক্তিক কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ে আমাদের ফাইল আটকে আছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।
ট্রেইনি চিকিৎসকদের অবরোধের কারণে রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, গত রোববার একই দাবিতে শাহবাগ অবরোধ করেন ট্রেইনি চিকিৎসকরা। এরপর ২৬ ডিসেম্বর আরও পাঁচ হাজার টাকা ভাতা বাড়িয়ে ৩০ হাজার করে সরকার। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ভাতা ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আবারও শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন চিকিৎসকরা।