লন্ডনে খালেদা জিয়া, অবশেষে মা-ছেলের দেখা

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন পৌঁছেছেন। লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এবং বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল ২টা ৫৫ মিনিটে তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

হিথ্রো বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান। এর আগে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার হযরত আলী খান বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

X29

বিএনপি চেয়ারপারসন সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই লন্ডন সফরে এসেছিলেন। এরপর তার আর কোনো বিদেশ সফর হয়নি। এই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে ছেলে তারেক রহমানেরও সরাসরি দেখা হয়নি। প্রায় সাড়ে সাত বছর পর মা-ছেলের সাক্ষাতের ঘটনায় হিথ্রোতে এক আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ অনেক নেতা-কর্মী উপস্থিত হন। বিমানবন্দরে বাইরেও বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় করতে দেখা গেছে।

X30

ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে হিথ্রো বিমানবন্দরের চতুর্থ টার্মিনালের রয়্যাল ভিভিআইপি গেট দিয়ে বের হয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে খালেদা জিয়ার সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা। কিছুক্ষণ আগে পাওয়া খবরে জানা গেছে খালেদা জিয়া প্রথম তারেক রহমানের বাসায় যাবেন।

সেখানে কিছু সময় কাটানোর পর বিএনপি নেত্রীকে হাসপাতালে নেয়া হবে। বিএনপির পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে, খালেদা জিয়াকে ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ ভর্তি করা হবে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসার পর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় হসপিটালে তার চিকিৎসা নেয়ার কথা রয়েছে।

X31

এর আগে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেন খালেদা জিয়া। বিমানবন্দরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা তাকে বিদায় জানান।

X32

লন্ডন পৌঁছানোর আগে প্রায় দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার ভ্রমণে দোহায় যাত্রা বিরতি করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম সাক্ষাৎ করে চেয়ারপার্সনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালে একটি দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তার অসুস্থতা বাড়ে।

এর মধ্যে কয়েকবার তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে তার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

X33

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর দুর্নীতির যে দুটি মামলায় তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন, সেগুলোর রায় বাতিল করে আদালত। এরপরই খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে বিএনপি।