পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদ থেকে আদিবাসী শব্দযুক্ত গ্রাফিতি বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সামনে হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়েছে ‘স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি’ ও ‘পাহাড়ি ছাত্র-জনতা’। এতে দু’পক্ষের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
একপর্যায়ে স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টির সদস্যরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পাহাড়ি আন্দোলনকারীরা। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয়পত্র বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে একটি গাছে পাঁচটি পাতায় হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টানের পাশাপাশি রাখা হয় আদিবাসী শব্দ। বিষয়টিকে রাষ্ট্রদ্রোহী পরিভাষা দাবি করে প্রচ্ছদ থেকে সরানোর দাবি উঠলে এনসিটিবি তা সরিয়ে নেয়, বিতর্কের শুরু তখন থেকেই।
এক পক্ষের দাবি, প্রচ্ছদে গাছের একটি পাতায় আদিবাসী শব্দটি যুক্ত করে এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ আদিবাসীদের সম্মান দিয়েছে। আর বিপরীতে স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টির সদস্যদের দাবি, এতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উস্কানি দেয়া হয়েছে, তাই তা সরানোটাই ছিলো যুক্তিযুক্ত।
এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ করে পরে মতিঝিলে এনসিটিবি ভবনের সামনে অবস্থান নেয় আদিবাসী শিক্ষার্থীরা। আর, উল্টোপাশে অবস্থান নেন স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টির সদস্যরা। এক পর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই তাদের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ, আহত হন দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন।
আহত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের দাবি, চাপে পড়ে এনসিটিবি গ্রাফিতি মুছে ফেলে উল্টো তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিচ্ছে একটি পক্ষ। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ দুপক্ষকেই থামানোর চেষ্টা করলেও মানব ব্যারিকেড ভেঙে এনসিটিবির সামনে সংঘর্ষে জড়ায় শিক্ষার্থীরা।
‘আদিবাসী’ শব্দ রাখার পক্ষে আন্দোলনকারী বিভূতিভূষণ মাহাতো বলেন, স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টির সদস্যরা আগে থেকেই হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তারা আমাদের হুমকিও দিয়েছিল এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচি না দেওয়ার জন্য। তারা ক্রিকেট স্ট্যাম্পের মাথায় জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রস্তুত ছিল হামলা করার জন্য।