সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে বাতিল হওয়া নিয়োগ ফিরে পাওয়ার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়কে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারীরা। তবে গতকাল সড়ক অবরোধ করলেও আজ রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
মঙ্গলবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে দাবি সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে জাদুঘরের সামনে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে, সোমবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন ১-১২তম এনটিআরসিএর নিবন্ধিত নিয়োগপ্রত্যাশীরা। পৌনে ২টার দিকে তাদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছ পুলিশ। এ সময় কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ শোনা যায়। পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন। এছাড়া আটক করা হয় কয়েকজনকে।
এরপর সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান করবেন।
মঙ্গলবার দুপুরে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, কিছু লোকজন জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান করছেন। তবে তারা আজ সড়ক অবরোধ করেননি।
এদিকে, শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিবন্ধিত ১ম-১২তম নিয়োগ প্রত্যাশী শিক্ষকরা সচিবালয়ে ডাক পেয়েছেন। সে অনুযায়ী আলোচনার জন্য সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬,৫৩১ জনের নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীরা বলেছেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি তিনটি ধাপে দেওয়া হয়েছিলো। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় ধাপ নিয়ে প্রহসন চলছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, ২০২৩ সালের ১৪ জুন তৃতীয় ধাপের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। লিখিত পরীক্ষা হয় ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় একই বছরের ২১ এপ্রিল। ১২ জুন সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ৩১ অক্টোবর ফল প্রকাশিত হয়। এতে ৬,৫৩১ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
কিন্তু পরে সুপারিশপ্রাপ্ত হননি এমন ৩১ জন হাইকোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬,৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ ৬,৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাতিল করে রায় দেয় হাইকোর্ট।