ঢাকায় ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আইসিসিআরের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন

ভারতের সংস্কৃতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। সংস্থাটি ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রচারের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে সাড়ে সাত দশকের যাত্রাকে চিহ্নিত করে।

এ উপলক্ষে বুধবার (৯ এপ্রিল) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের অধীন ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপ-হাই কমিশনার শ্রী পবন বঢ়ে বলেন, এই অনুষ্ঠান শুধু আইসিসিআরের ঐতিহ্যকে উদযাপন করে না, বরং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং জনগণের মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।  

১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে, আইসিসিআর শিল্প, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০১১ সালে ধানমন্ডিতে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ২০২১ সালে গুলশানে ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। বছরের পর বছর ধরে, এই কেন্দ্রটি একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক বিনিময় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে ধ্রুপদী নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা থেকে শুরু করে সাহিত্য অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং কর্মশালাসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। 
এই কেন্দ্রটি খ্যাতনামা ভারতীয় শিল্পীদের বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশি শিল্পীদের ভারতে সফরের সুযোগ করে দিয়ে গভীর শিল্পকলাভিত্তিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। 

গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে এই অনুষ্ঠানে সিলেটের বাংলাদেশি মণিপুরি সম্প্রদায়ের সদস্যরা ‘লাই হরোবা’ পরিবেশন করেন। ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রশিক্ষিত এই পরিবেশনা এই অঞ্চলের যৌথ ঐতিহ্যের একটি প্রমাণ এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পরূপ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে আইসিসিআর ও ভারতের হাই কমিশনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। 

অনুষ্ঠানে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের শিক্ষার্থীদের কাথক, ভরতনাট্যম এবং ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীতের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনাও ছিলো।

সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি আইসিসিআর মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষা বিনিময় কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। প্রতি বছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫০০ ও বেশি বৃত্তি প্রদান করা হয় যাতে তারা ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে - যা দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও জনগণের সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী, শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।