ঢাকায় রাশিয়ার ৮০তম বিজয় দিবস উদযাপন

নানা আয়োজনে ঢাকায় উদযাপিত হলো রাশিয়ার ৮০তম বিজয় দিবস। রোববার (১২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিজয়ের ঐতিহাসিক দিনটি স্মরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশে রাশিয়ান দূতাবাস এবং মস্কোভিত্তিক পাবলিক ডিপ্লোমেসি সংস্থা ‘রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন এবং রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশের সভাপতি মিয়া সাত্তার।

এসময় জি খোজিন বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের যুদ্ধে রাশিয়ার আত্মত্যাগের স্মৃতি জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। ইতিহাস বিকৃতি, নাৎসি অপরাধীদের নির্দোষ প্রমাণ কিংবা সোভিয়েত বিজয়ের অবদান খাটো করে দেখা-এসব অনৈতিক প্রবণতা রোধ করা জরুরি।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং দেশেপ্রেমে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে রাশিয়া কখনই অতীতের শিক্ষা ভুলে যেতে দেবে না।

জি খোজিন বলেন, যুদ্ধ চিরকাল জনগণের স্মৃতিতে রয়ে গেছে। এগুলো তিক্ত এবং একই সঙ্গে আমাদের ইতিহাসের বীরত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা, যা আমাদের জাতির ভাগ্যে রক্তে লেখা। আমরা যুদ্ধ সম্পর্কে ঐতিহাসিক সত্য এবং এর স্মৃতি আমাদের বংশধরদের কাছে পৌঁছে দেবো।

মিয়া সাত্তার বলেন, এই বিজয় দিবস শুধু স্মরণ নয়, বরং ইতিহাসের সত্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়ভারও মনে করিয়ে দেয়। বাংলাদেশ-রাশিয়া বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন আরো দৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক বিনিময় বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানের আনন্দআয়োজন পর্বে পর্বে রাশিয়ান লোকসংগীত দল ‘ওবরাজ; এর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের লোকনৃত্য ও ব্যালে পরিবেশনার পাশাপাশি ছিলো ‘বিজয়ের পথ’ শিরোনামে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী। যেখানে তুলে ধরা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও ব্যবসায়ী নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবছর ৯ মে রাশিয়া বিজয় দিবস উদযাপন করে। তবে এ বছর ছিলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের নাৎসি পরাজয়ের ৮০ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে এই আয়োজন রাশিয়ার জাতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় স্মরণ করলো।