এডিস মশার ঘনত্ব জরিপ বন্ধ, দমন প্রস্তুতিও দৃশ্যমান নয়

ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর উপস্থিতি বেশি না হলেও, স্বস্তির ঢেকুর তোলার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন কীটতত্ববিদরা। তারা বলছেন, থেমে থেমে বৃষ্টি এডিস মশার বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। এতে, যে কোন সময়ে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে, ঢাকার দুই সিটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিস মশার ঘনত্ব জরিপ বন্ধ থাকায় এই জীবাণুর গতিবিধি অজ্ঞাত থাকছে। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। পরিসংখ্যান  বলছে, এখন এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে ১৪ জন। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে এই বছরে এই হাসপাতালেও সবচেয়ে বেশি ছয় জন মারা গেছে ।

তবে, এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অধিকাংশ দেশের দক্ষিণের জেলা থেকে ঢাকার প্রতিটি হাসপাতালে কমবেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। স্বাস্থ্যের পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ১০৭ জন ভর্তি আছে বরিশাল বিভাগে। এরপরে যথাক্রমে ঢাকা , সিলেট, রংপুরসহ অন্যান্য বিভাগে। 

কীটতত্ববিদরা ড. কবিরুল বাশার বলেন, এখন ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির হার কম থাকায় স্বস্তির কোন সুযোগ নেই। যেহেতু থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, এটাই এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত সময়। যেকোনো সময়ে এডিস মশার প্রকোপ বেড়ে যাওয়া শঙ্কা হতে পারে। যদিও আগস্ট-সেপ্টম্বর-অক্টোবর এই ৩ মাস ডেঙ্গুর পিক সময় হিসেবে ধরা হয়।

এই কীটতত্ববিদরা আরও বলেন, ৫ আগস্ট এর পর থেকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে এডিস মশার জরিপ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এই জরিপ ১০ মাস থেকে স্থগিতে ঢাকার দুই সিটিতে এডিশ মশার ঘনত্ব সঠিক ভাবে জানা যাচ্ছেনা। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

আবহাওয়াবিদ সাইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই বৃষ্টির মাত্রাটা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ফলে ডেঙ্গু মশা বিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে। এই পরিস্থিতি এখনই এডিস মশা নিধনে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা।