মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনাস্থল দেখতে স্কুলের সামনে ভিড় করেছে উৎসুক জনতা। অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে একটি মিসিং সেলও খোলা হয়েছে। অভিভাবকদের ম্যাসেজে জানানো হয়েছে ২৫ জুলাই পর্যন্ত স্কুল বন্ধ।
রাজধানীর দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরেজমিনে ঘুরে বুধবার (২৩ জুলাই) দেখা যায় বিমান দুর্ঘটনার তৃতীয় দিনেও ভিড় করেছেন অসংখ্য মানুষ।
শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অনেক অভিভাবকরাও আসছেন ক্যাম্পাসের সামনে। আসছেন উৎসুক জনতাও। তবে স্কুলের প্রধান ফটক বন্ধ। নিরাপত্তা প্রহরীরা দর্শনার্থী, সাংবাদিকসহ অন্য কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না।
স্কুলের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভেতরে ঘটনাস্থলও পর্যবেক্ষণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এঘটনায় অধ্যক্ষ জিয়াউল আলমকে সভাপতি করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে স্কুলটির পরিচালক রাসেল তালুকদার মুঠোফোনে জানান, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। বুধবার বিমান দুর্ঘটনায় ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করেছে। কোনো অভিভাবক সন্তান খুঁজে না পেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ নম্বর ভবনে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে পৌঁছেছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সোমবার (২১ জুলাই) বেলা ১টা ৬ মিনিটে রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিমানটি স্কুল ভবনের ওপর এসে বিধ্বস্ত হয়। বেলা ১টা ১৮ মিনিটে এই খবর পায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
মঙ্গলবার জানা যায়, বিমানবাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান স্কুলটির চত্বরের একটি দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত চীনের তৈরি এই যুদ্ধবিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উত্তরার ওই স্কুল ভবনে আছড়ে পড়েছিলো।
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল ভবনে আগুন ধরে যায়। এসময় দগ্ধ শিশুদের আর্তনাদ, সন্তানের খোঁজে উদভ্রান্ত মা-বাবা ও স্বজনদের কান্নায় চারপাশ ভারী হয়ে ওঠে।