সমাজের প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রণয়ন ও তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে শিশুদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। শনিবার সকালে আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে সামাজিকভাবে অনগ্রসর ও বিপদাপন্ন শিশুদের উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রণয়নের অপরিহার্যতা শিরোনামে এক গোলটেবিল বৈঠক এসব কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (লিডো) নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এ গোলটেবিল বৈঠকে সমাজসেবার প্রতিনিধি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, শিশুদের চিন্তা, মতামত ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব।
আলোচনার শুরুতে ২০২৪ এর জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও ২০২৫ এর জুলাই বিমান দুর্ঘটনায় মাইলস্টোনে স্কুলে নিহত শিশু শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্যান্য কর্মীদের মৃত্যুতে আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনায় সমাজের প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রণয়ন ও তাদের মলূধারায় সম্পৃক্ত করার মতামতকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়। শিশুদের চিন্তা, মতামত ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব বলে আলোচকরা উল্লেখ করেন।
লিডোর ইয়াং জার্নালিজম প্রজেক্টের এই গোল টেবিল বৈঠকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট প্রতিনিধিসহ অন্যান্য সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের স্টেক হোল্ডার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিশু সুরক্ষা প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সংবাদকর্মীসহ ইয়ং জার্নালিজম টিমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
জার্নালিজম প্রজেক্টের আক্তার, মাহফুজা সুলতানা মুন্নি, শিউলি আক্তার, সাথি আক্তার তাহমিনা তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। অনগ্রসর শিশুদের জন্ম নিবন্ধন, স্কুলের অন্তর্ভুক্তি, স্বার্থ-সুবিধা এবং স্বাধীনতা ৫৪ বছর পরও পথ শিশুদের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাছাড়া জুলাই আগস্টে নিহত পথ শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও অজ্ঞাত বলে জানান তারা।
এদিন সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের সদস্যরা শিশুদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
সমাপনী বক্তব্যে লিডোর নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই জার্নালিজম প্রজেক্টের মাধ্যমে শিশুরা বিকশিত হবে এবং সরকারের নীতি নির্ধারণের পর্যায়ে তাদের অধিকার সংক্রান্ত দাবিগুলো উত্থাপন করে সবার সহযোগিতায় প্রান্তিক জীবন মানে উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সহায়ক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
আয়োজকরা বলেন, আজকের এই আলোচনা প্রান্তিক শিশুদের উন্নয়নে নীতি নির্ধারণের স্তরে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।