‘দেশে বছরে প্রায় ১২ হাজার নারীর মৃত্যু জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারে’

বাংলাদেশে ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যান্সার অন্যতম বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা জানান, প্রতি বছর এই দুই রোগে প্রায় ১২ হাজার নারী মারা যান। এর মধ্যে জরায়ু-মুখ ক্যান্সারে প্রায় সাত হাজার এবং স্তন ক্যান্সারে প্রায় পাঁচ হাজার নারীর মৃত্যু হয়। শুধু ২০২৩ সালেই এ দুই ধরনের ক্যান্সারে প্রায় ২১ হাজার নারী আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তারা।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রোটারি ক্লাব অব বনানী, ঢাকার উদ্যোগে এবং ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রাম ও জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগিতায় রাজধানীর খিলক্ষেত সিসিএসএন ও ফ্যামিলি হেলথ কেয়ার সেন্টারে বিনামূল্যে স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার স্ক্রিনিং ক্যাম্পে তারা এই তথ্য জানান। 

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ১০৬ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বর্তমানে দেশে ৩৮ ধরনের ক্যান্সারের রোগী শনাক্ত হলেও এর মধ্যে স্তন, মুখ, পাকস্থলী, শ্বাসনালী ও জরায়ু-মুখ ক্যান্সারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

তবে দেশজুড়ে রোগভিত্তিক কোনো জাতীয় জরিপ না থাকায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। 

ক্যাম্পের আয়োজকরা জানান, এই মেডিক্যাল ক্যাম্পে সকাল ৯টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত ১৪০ জন নারী নিবন্ধন করেন। দুপুর দুইটা পর্যন্ত পরীক্ষা করান ৮১ জন। আবহাওয়া ও সময়সীমার কারণে অনেক আগ্রহী নারী অংশ নিতে না পারলেও তাদের আগামী মাসের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পে আট জন নারীর সম্ভাব্য সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তাদের আগামী সোমবার সিসিএসএন-এ ফলোআপ পরীক্ষা এবং দুই সপ্তাহ পর জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে বিস্তারিত তদন্তের জন্য রেফার করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ক্যাম্পে সিসিএসএন-এর মেডিক্যাল অফিসার ও নার্সিং টিম রোগীদের রেকর্ড সংরক্ষণ ও ফলোআপ নিশ্চিত করেন।

রোটারি ক্লাব অব বনানী জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে নারীদের জীবন বাঁচানো সম্ভব। এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।