আইইএলটিএসের ফল প্রকাশে বিলম্ব, যা বলছে ব্রিটিশ কাউন্সিল

গত ২৩ আগস্ট এবং ছয় সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম (আইইএলটিএস) পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা ছিলো। কিন্তু মাস পার হলেও এখনও ফল প্রকাশিত হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বলছেন, আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার কাছ থেকে এমন ‘অপেশাদার’ আচরণে তারা হতাশ। তবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, যা হচ্ছে, তা নিয়ম মেনেই।

একাধিক শিক্ষার্থী একাত্তরকে অভিযোগ করে বলেন, গত ছয় সেপ্টেম্বরের পরীক্ষার পর পুরো দেশের সবার ফল উইড্রো করা হয়। এরপর কারো কারো ফলাফল দেওয়া হলেও অনেকেরটা দেওয়া হচ্ছে না। বার বার ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং আইডিপিকে মেইল করা হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

তাদের আরও অভিযোগ, ফেব্রুয়ারির যে সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করা হয়, সে সময়ে ফল না পাওয়ায় তারা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারছেন না।

মূলত ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং আইডিপি যৌথভাবে আইইএলটিএস পরীক্ষা পরিচালনা করে এবং তারা একই পরীক্ষার অংশীদার। এই পরীক্ষাগুলো ক্যামব্রিজ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাসেসমেন্ট দ্বারা তৈরি করা হয়।

এ অবস্থায় যুক্তরাজ্যের বিশেষায়িত শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমভিত্তিক সংস্থা ব্রিটিশ কাউন্সিলের কাছে একাত্তর জানতে চায়- এমন অবস্থায় কী করবেন শিক্ষার্থীরা?

জবাবে ব্রিটিশ কাউন্সিল জানায়, পরীক্ষার্থীরা অনুরোধ করলে তাদের মনোনীত সংস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফল প্রকাশের বিলম্বের বিষয়টি জানিয়ে সহায়তা করতে পারি। এর ফলে তাদের আবেদনের সময়সীমা (ডেডলাইন) সামলানো সহজ হবে।

আইএলটিএসকে নিরাপদ, ন্যায্য এবং বৈধ পরীক্ষা দাবি করে ব্রিটিশ কাউন্সিল জানায়, তারা বিশ্বের ১১ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতি বছর পরীক্ষা দেওয়া লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংস্থাটির মতে, ফল যাচাই-বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়া সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষারই অংশ।

এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত ছয় সেপ্টেম্বর যারা পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী ২৪ সেপ্টেম্বর ফল পেয়েছেন, তবে তারা জানেন না কতো জন পাননি।

ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, দ্রুত ফল প্রকাশ না হলে তারা অনশন এবং অবস্থান কর্মসূচির কথাও ভাবছেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে দ্রুতই। 

পরীক্ষার তারিখ এবং ফলের বিষয়ে যা বলছে ব্রিটিশ কাউন্সিল:

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, সাধারণত অনলাইন পরীক্ষা দিলে ছয় থেকে আট দিনের মধ্যে ফল পাওয়া যায়। কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা দিলে এক থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই মেলে ফল।

এছাড়া কাগজভিত্তিক (পেপার বেসড) পরীক্ষা দিলে সর্বোচ্চ ১৩ দিনের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে।

এ অবস্থায় প্রায় ৩০ দিন পেরিয়ে গেলেও কেন ফল প্রকাশ করা হয়নি, এ ব্যাপারে ব্রিটিশ কাউন্সিল জানায়, গত ২৩ আগস্টের পরীক্ষার যে অল্প কিছু ফল স্থগিত ছিলো সেগুলোর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং সব প্রার্থীকে ফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ছয় সেপ্টেম্বরের পরীক্ষার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ফল প্রকাশিত হলেও প্রায় ছয় শতাংশ ফল চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য বর্তমানে স্থগিত আছে।

কারণ হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিল বলছে, ফল যাচাইয়ের জন্য আইএলটিএস পরীক্ষার বহুস্তরীয় পদ্ধতির (মাল্টি-লেয়ার অ্যাপ্রোচ) কারণে প্রয়োজনে ১৩ দিনের সময়সীমার পরেও ফলগুলো আরও বিশ্লেষণের জন্য স্থগিত রাখা যেতে পারে। রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রার্থীরা এই শর্তটি স্বীকার করে এবং মেনে নেয়। পরীক্ষার সততা এবং সব পরীক্ষার্থীর প্রতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্যই ফল স্থগিত রেখে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রতি বছর লাখ লাখ পরীক্ষার্থী আইইএলটিএস পরীক্ষা দেয়, তাই বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা অপরিহার্য।

ব্রিটিশ কাউন্সিল একাত্তরের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেছে, আইএলটিএসের একটি মূলনীতি হলো পরীক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার প্রকৃত এবং নির্ভুল মূল্যায়ন করা। এই কারণেই আইএলটিএস বিশ্বব্যাপী এতো মূল্যবান এবং বিশ্বাসযোগ্য একটি পরীক্ষা।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আমরা বুঝতে পারছি, অনেক পরীক্ষার্থী পড়াশোনা, ভ্রমণ বা চাকরির আবেদনের জন্যই পরীক্ষা দেন। যদি কোনো পরীক্ষার্থী অনুরোধ করেন, তাহলে আমরা তাদের মনোনীত সংস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফল প্রকাশের বিলম্বের বিষয়টি জানিয়ে সহায়তা করতে পারি। এর ফলে তাদের আবেদনের সময়সীমা সামলানো সহজ হবে।

সম্প্রতি আইএলটিএস পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত বেশ কিছু সংবাদ প্রচার করে গণমাধ্যম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে।