নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে ‘মুন অ্যালার্ট’ ও হেল্পলাইন চালু

নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে দেশে প্রথমবারের মতে চালু হলো ‘মুন অ্যালার্ট’। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে এই সেবা চালু করা হয়। এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯।

সকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ (এমইউএ) জাতীয় জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা ও টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ এর উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত আইজিপি সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ। 

সিআইডি জানায়, কোনো শিশু নিখোঁজ হলে মুন অ্যালার্টের মাধ্যমে শিশুটির তথ্য দ্রুত পুলিশ স্টেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংকিং এটিএম বুথ, মেট্রোরেলসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হবে । এছাড়া বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালের জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হবে নিখোঁজ শিশুর ছবিসহ খবরটি। সীমান্ত দিয়ে নিখোঁজ শিশু পাচার বন্ধে সীমান্তে অ্যালার্ট জারি করা হবে, বিজিবিকে সতর্ক করা হবে। 

সিআইডি বলছে, নিখোঁজের প্রথম তিন ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরে নিয়ে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিখোঁজ অ্যালার্টটি হবে সমন্বিত। এটি তদারকি করবে সিআইডি, তবে গুরুত্ব অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের প্রায় সবগুলো স্টেকহোল্ডার এখানে সহযোগিতা করবে। 

উদ্বোধনকালে সিআইডি প্রধান বলেন, কোনো শিশুর অশ্লীল বা যৌন নির্যাতনের ছবি মোবাইলে ধারণ হলেই, তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য সিআইডির কাছে পৌঁছে যাবে। 

মুন অ্যালার্ট নামকরণে কারণ

২০২৪ সালের নভেম্বরে সিলেটের কানাইঘাট থেকে নিখোঁজ হয় শিশু মুনতাহা আক্তার (৫)। অপহৃত শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য ডোবায় পুঁতে রাখা হয়েছিলো। 

সিলেটের কানাইঘাট থেকে নিখোঁজের সাত দিন পর শিশু মুনতাহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই শিশু মুনতাহাকে উৎসর্গ করেই নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘মুন অ্যালার্ট’ ও হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু করা হলো।