জিয়াউলকে দিয়ে গুম-খুনের প্রথম বিচার শুরু, সাক্ষ্য আট ফেব্রুয়ারি

শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও খুনের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে আগামী আট ফেব্রুয়ারি। এর মধ্য দিয়ে দেশে প্রথম গুমের বিচার শুরু হলো।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেয়।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, গুমের পর খুন করে পেট কেটে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিতেন জিয়াউল আহসান।

তিনি জানান, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলার বিচারের মধ্য দিয়ে দেশে গুমের বিচার শুরু হলো। এটি গুমের প্রথম মামলা। জিয়াউলের বিরুদ্ধে ১০৪ জনকে গুম ও খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

এদিকে জিয়াউল ট্রাইব্যুনালে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন উল্লেখ করে তার আইনজীবী নাজনীন নাহার জানিয়েছে, জিয়াউল আহসানের সব কাজই ছিলো আইন অনুযায়ী। উনি একজন কমান্ডো অফিসার। তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন, মিথ্যা। 

এর আগে, গত ১৭ ডিসেম্বর এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর, তা উপস্থাপন করে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে আদেশ দেয়।

আজ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাত জন হত্যা মামলায় প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়। এছাড়া একই ট্রাইব্যুনালে গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের জন্য ২২ জানুয়ারি দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। 

এছাড়া টিএফআই সেলে গুমের মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের আইনজীবীদের টিএফআই সেল পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল ১।