বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘যৌন হয়রানি প্রতিকার নীতিমালা’ (সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট রেসপন্স প্রোটোকল) প্রণয়ন করেছে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন বাংলাদেশ।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নীতিমালা বা প্রোটোকল প্রকাশ করা হয়।
এফসিডিও-এর সহায়তায় বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন পরিচালিত ‘স্ট্রেনথেনিং উইমেন জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক টু ট্যাকল সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এটি তৈরি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন একটি বড়ো পদক্ষেপ হলেও প্রাতিষ্ঠানিক সদিচ্ছা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
অনুষ্ঠানে প্রকাশিতব্য একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সিনিয়র মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট অফিসার আরাফাত সিদ্দিক। আন্তর্জাতিক সংস্থা WAN-IFRA ও সিটি সেন্ট জর্জ’স ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত ২০২৫ সালের ওই জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গড় ১৫ শতাংশ সংবাদকর্মী সরাসরি যৌন হয়রানির শিকার। নারী সাংবাদিকদের মধ্যে ৫১ শতাংশ মৌখিক এবং ২১ শতাংশ শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।
জরিপে সাতজন নারী ও দুইজন পুরুষ সাংবাদিক ধর্ষণের শিকার হওয়ার ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন।
অভিযোগের ক্ষেত্রে ৪৩ শতাংশ নারী ও ৬০ শতাংশ পুরুষের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।
সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, যৌন নিপীড়ন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। প্রোটোকল শুধু কাগজে থাকলে চলবে না, প্রতিটি নিউজরুমে এ নিয়ে আলোচনা ও মালিক-সম্পাদকদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন জানান, সংবাদমাধ্যমে নারী সাংবাদিকের সংখ্যা ১০ শতাংশের কম। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে এই ভারসাম্য আনা সম্ভব নয়।
উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (ডব্লিউজেএনবি) কো-অর্ডিনেটর আঙ্গুর নাহার মন্টি বলেন, লোকলজ্জার কারণে অনেক ঘটনা আড়ালে থাকে। নারী-পুরুষ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই নীতিমালার লক্ষ্য।
ইউএন উইমেন বাংলাদেশের শারারত ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল আলম চৌধুরী উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এই প্রোটোকল বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। চ্যানেল আই-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুর জামান রনি বলেন, নিপীড়ক বহাল তবিয়তে থাকে আর ভুক্তভোগী চাকরি হারান—এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রথম আলো অনলাইন ইংরেজি সংস্করণের সম্পাদক আয়েশা কবীরসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে সংবাদমাধ্যমে এই প্রোটোকল বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।