২২ লাখের কালা মানিক কিনলেই খাসি ফ্রি!

রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে, আর প্রথম দিনেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নজর কেড়ে নিয়েছে উত্তরের দিয়াবাড়ি হাট। হাটের ১ নম্বর হাসিল ঘরের কাছে যেতেই চোখ চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়! সেখানে দাঁড়িয়ে আছে কুচকুচে কালো রঙের এক বিশালদেহী দানবীয় গরু, যার ঠিক পাশেই বাঁধা একটি রাজকীয় খাসি। কালো-সাদা লোমে ঢাকা শরীর আর মাথায় বাঁকানো শিং নিয়ে খাসিটি যেন ওই বিশাল গরুর অতন্দ্র প্রহরী। পাশাপাশি বাঁধা এই দুই প্রাণীর যুগলবন্দি দেখতে হাটে আসা মানুষের কৌতূহলের যেন শেষ নেই।

এই বিশালদেহী গরুর নাম রাখা হয়েছে ‘কালা মানিক’। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে রোববার দুপুর ১২টার দিকে কালা মানিককে নিয়ে হাটে এসেছেন খামারি সোহাগ মৃধা ও তাঁর চাচা মজিবর জমাদ্দার। মজিবর জমাদ্দার বুক ফুলিয়ে কালা মানিকের খতিয়ান দিলেন, লম্বায় প্রায় ১২ ফুট, আর উচ্চতায় ৬ ফুট। ওজন শুনলে মাথা ঘুরে যাওয়ার দশা; প্রায় ৪৫ মণ বা ১ হাজার ৮০০ কেজি! গত সাতটি বছর ধরে বাড়ির সন্তানের মতো পরম যত্নে কালা মানিককে লালনপালন করে এত বড় করেছেন তাঁরা।

তবে এই গল্পের সবচেয়ে ‘রসালো’ টুইস্ট হলো কালা মানিকের পাশের ওই খাসিটি। মজিবর জমাদ্দার সোজা জানিয়ে দিলেন, খাসিটি আলাদাভাবে বিক্রির জন্য নয়। যে সৌভাগ্যবান ক্রেতা ২২ লাখ টাকা দামের ‘কালা মানিক’-কে কিনবেন, তাঁকে প্রায় ৫০ কেজি ওজনের এই চমৎকার খাসিটি একদম বিনামূল্যে ‘উপহার’ হিসেবে দিয়ে দেয়া হবে!

বিক্রেতা সোহাগ মৃধা জানান, হাটে তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কালা মানিকের দাম ১৯ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। তবে ২০ লাখ টাকা নগদ পেলেই পরম মায়ায় বড় করা কালা মানিক আর খাসি জোড়াকে নতুন মালিকের হাতে সঁপে দেবেন তাঁরা।

দিয়াবাড়ি হাটের ঠিক আরেক কোণে গেলেই দেখা মিলবে আরেক অবিশ্বাস্য দৃশ্যের। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে ২৬টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন পাইকার আক্তার ব্যাপারী। তার কালেকশনের দুটি বড় গরু হাটে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা গরু দুটির শারীরিক গঠন, গায়ের রং আর আকৃতি এতটাই হুবহু এক যে, ক্রেতারা দূর থেকে দেখেই ‘যমজ গরু’ বলে চিৎকার উঠছেন!

আক্তার ব্যাপারী হেসেই খোলসা করলেন আসল রহস্য। তিনি জানান, গরু দুটি আসলে যমজ নয়। সাড়ে তিন বছর আগে দুটি ভিন্ন বাড়ি থেকে বাছুর অবস্থায় কিনেছিলেন তিনি। অথচ বড় হওয়ার পর তাদের রূপ-লাবণ্য একই ছাঁচে তৈরি হয়েছে। কোনো কৃত্রিম ওষুধ নয়, কাঁচা ঘাস, বিচালি আর গমের ভুসি খাইয়ে নিজের সন্তানের মতো ভালোবেসে বড় করেছেন এদের।

এই ‘যমজ’ জোড়ার দাম প্রথমে ২৫ লাখ টাকা হাঁকলেও, এখন ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা পেলেই ছাড়তে রাজি আছেন আক্তার ব্যাপারী। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে এদের বিক্রি করার সময় যে বুকটা ফেটে যাবে, তা খামারির চোখের কোণেই স্পষ্ট।

দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে এবার রাজধানীতে মোট ২১টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত বসেছে ২০টি হাট। উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটিতেই ১০টি করে অস্থায়ী হাট পুরোদমে চালু হয়েছে। এসব অস্থায়ী হাটের পাশাপাশি গাবতলী ও সারুলিয়ার মতো স্থায়ী হাটগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে কেনাবেচা জমতে শুরু করেছে। কোরবানির ঈদের আর মাত্র কিছুদিন বাকি, তাই প্রিয় পশুকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আনন্দ আর খামারিদের সাধনার ধন বিক্রির মিশ্র অনুভূতিতে ঢাকার প্রতিটি হাট এখন এক আবেগঘন চত্বরে পরিণত হয়েছে।