হজযাত্রীদের লাগেজ কাটার ঘটনাটি বাংলাদেশ অংশে ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা সত্য নয়। এই ঘটনা যদি ঘটেও থাকে, তবে তা সৌদি আরব অংশে হয়ে থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হাজিদের লাগেজ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক, নতুন বিমান কেনা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে সরকারের নানামুখী প্রস্তুতি ও অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
বিমান প্রতিমন্ত্রী জানান, হাজিদের লাগেজ কাটার অভিযোগ ওঠার পরপরই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। তদন্তের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ড্যামেজ এবং পাঁচটি লাগেজ কাটা পাওয়া গেছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ অংশে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা লাগেজ কাটার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফেসবুকের বিষয়টি অসত্য। এটা হলে সৌদি আরব অংশে হতে পারে।
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সামগ্রিক সেবা ও যাত্রী ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও সতর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল চালু প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বহুল আকাঙ্ক্ষিত থার্ড টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করা হবে। এই বছরের শেষে এটি পুরোদমে চালু হলে বিমানবন্দরের বর্তমান অব্যবস্থাপনা অনেকটাই কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পাশাপাশি বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার আধুনিকায়নে জাপানের সঙ্গে চুক্তি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিয়ে জাপানের সাথে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সেবা নিশ্চিত করতে সেই চুক্তিটিকে আরও এগিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য নতুন ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানের বহর শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের জন্য বিমানের আসলেই এই উড়োজাহাজগুলোর প্রয়োজন আছে।