রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১–এর সদর দপ্তরে থাকা গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আয়নাঘর কোনো রূপকথা বা কল্পনা নয়, এটিই নির্মম বাস্তব। টানা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন ও তোপের মুখে রাখা বিরোধীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাতে এই বন্দিশালা গড়ে তোলা হয়েছিলো।
শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে এই পরিদর্শনে যান ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম।
পরিদর্শনকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এই গোপন বন্দিশালায় ‘ডেথ সেল’ নামে পরিচিত মোট ২৯টি বিশেষ কক্ষের সন্ধান মিলেছে। আয়নাঘর গড়ে তোলার পেছনে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ দায় রয়েছে এবং তৎকালীন সরকারের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থায় তোপ ও ফ্যাসিবাদের রূপ দেওয়া হয়েছিলো। এর সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি রাজনৈতিক ব্যক্তি, নেতা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে আয়নাঘরের আলামত ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
পরিদর্শনকালে জানানো হয়, বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও এই বন্দিশালায় গুম করে রাখা হয়েছিলো।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এছাড়া প্রসিকিউশন টিমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
এর আগে, গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিদেশের সিদ্ধান্ত দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই আবেদনে ডিজিএফআই, র্যাব ও ডিবির অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের অনুমতি চাওয়া হয়। শুনানিতে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এসব গোপন আস্তানায় বিরোধী মতাদর্শের মানুষদের তুলে এনে দিনের পর দিন নির্যাতন ও গুম করে রাখার বিস্তারিত তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরা হয়েছিলো।