রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বহুল আলোচিত কিশোর গ্যাং লিডার এলেক্স ইমন হত্যা মামলার দুই নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হোসেন আহমেদ শাহরুখসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি দেশীয় রিভলবার, ম্যাগাজিন, তাজা গুলি, গানপাউডার এবং দুটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়।
রোববার, মোহাম্মদপুরে র্যাব-২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নয়মুল হাসান এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলো শাহরুখের সহযোগী তারেকুজ্জামান তারেক (৩০) ও শহিদুল ইসলাম (২৯)।
র্যাব জানায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে শাহবাগ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শাহরুখ ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকার হাজী ইউনুস খান রোডের একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, একটি দেশীয় রিভলবার, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, ২৬০ গ্রাম গানপাউডার ও দুটি সামুরাই জব্দ করা হয়।
গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে 'এলেক্স গ্রুপ' ও 'আরমান-শাহরুখ গ্রুপের' মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনায় ইমনের পরিবার মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করে।
র্যাব-২-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার শাহরুখ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং প্রধান। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় অস্ত্র, খুন, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং দ্রুতবিচার আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে সহযোগী তারেকুজ্জামান তারেকের বিরুদ্ধেও চুরি ও হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে।
এলেক্স ইমন হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় ৬ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৫ জনসহ মোট ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং কালচার ও তাদের পেছনে থাকা মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।