‘অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না, রাড্ডায় পুলিশের গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা’

রাজধানীর মিরপুরে ‘রাড্ডা’ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য এবং নাম উল্লিখিত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

পরিদর্শনকালে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার কোনো দল-মত বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। যে অপরাধ করেছে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যদি পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০)।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে বলে অভিযোগ। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্য মালপত্র লুট করে নেওয়া হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।