মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের ভূমিকা বাড়ানোর তাগিদ

মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর, মানবিক ও জনবান্ধব করতে আইন ও বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি মনোসামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন নীতিনির্ধারক ও বিশেজ্ঞরা। তারা বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী এবং ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে ‘ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ -এর উদ্যোগে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল—“Lived Experiences to Meaningful Change: Promoting Clinical Social Work Practice in Mental Health”।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, এমপি; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, সামাজিক সমস্যার সমাধান কেবল আইন দিয়ে সম্ভব নয়; এর জন্য মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার প্রয়োজন। বাল্যবিবাহের মতো সমস্যা রোধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ সময় সমাজসেবা কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে সমাজকর্ম বা সমাজকল্যাণ বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের পেশাগত দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর আলোকপাত করেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, এমপি তার বক্তব্যে মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বায়ো-সাইকো-সোশ্যাল মডেলের ওপর জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সামগ্রিক সুস্থতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী সমাজসেবা অফিসার পদে সমাজকল্যাণ বা সমাজকর্ম ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার এবং পৃথক বিসিএস সমাজসেবা ক্যাডার চালুর জোরালো আহবান জানান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিএসডব্লিউএবির সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার। তিনি সমাজকর্ম পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। প্রথমত, সমাজসেবা অফিসার ও সহকারী সমাজসেবা অফিসার পদে বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকারভিত্তিক নিয়োগ পুনর্বহাল করা। দ্বিতীয়ত, হাসপাতাল, কিশোর-কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র ও মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের পদ সৃষ্টি ও উপযুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করা।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য ও সংগঠনের লক্ষ্য তুলে ধরে সিএসডব্লিউএবির সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহীন খান বলেন, মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য ও মর্যাদাপূর্ণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুর নাহারসহ দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং মানসিক স্বাস্থ্য খাতের পেশাজীবীরা অংশ নেন।