মনজুর খান প্লাজার আগুন ছড়ালো পাশের ভবনেও

রাজধানীর পুরান ঢাকার অতি ঘিঞ্জি এলাকা চকবাজারের ছোট কাটরা সংলগ্ন এসি মসজিদের পাশে ‘মনজুর খান প্লাজা’ (অন্য সূত্রে ‘মুনসুর খান প্লাজা’) নামের একটি সাততলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকেল ৫টা ২ মিনিটের দিকে ভবনটির ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভয়াবহ এই আগুন পরবর্তীতে পাশেই থাকা আরেকটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ শুরু করার সাড়ে পাঁচ ঘন্টার চেষ্টায়আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। 

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে তারা প্রথম অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পান। ফায়ার স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার হলেও পুরান ঢাকার চরম যানজট এবং সরু গলি পেরিয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম গাড়িটি বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে পৌঁছায়। এরপর দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

শুরুতে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট কাজ শুরু করলেও ভবনের ভেতরে কেমিক্যাল বা প্লাস্টিক জাতীয় উপাদানের প্রভাবে প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হওয়ায় ফায়ার ফাইটারদের বেগ পেতে হয়। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার মুখে তা পার্শ্ববর্তী ভবনে ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধার কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হয়।

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরান ঢাকার এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন নেভানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পানির কোনো স্থায়ী বা প্রাকৃতিক উৎস পাওয়া যাচ্ছে না। এটিই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বহু দূর থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ হোসপাইপ টেনে এনে এবং পানিবাহী গাড়ির (ওয়াটার টেন্ডার) মাধ্যমে একাধারে পানি ছিটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। 

তীব্র ধোঁয়া ও পানির সংকটে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন অন্যান্য ভবনে ছড়ানো রোধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে প্রাথমিকভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের নির্দিষ্ট কারণ, ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ কিংবা কোনো প্রাণহানি ও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, প্রসাধন পণ্য থাকায় দেরি হয়েছে আগুন নেভাতে। মার্কেটটিতে ভ্যানিটি ব্যাগ, প্রসাধনী সামগ্রী, ছাতা ও গ্যাসলাইটার পাইকারী বিক্রি করা হয়। আর ছয় তলায় হলো সে সব পণ্যের গুদাম। সেখানেই লাগে আগুন। এ ভবনের তিন তলায় আছে পূবালী ব্যাংকের শাখা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই আগুনে তাদের ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা।